ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

পানির তলায় হারিয়ে যাওয়া ভুতুড়ে গ্রামের দেখা মিলল ২৬ বছর পর

সাত রঙ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:০৯, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
পানির তলায় হারিয়ে যাওয়া ভুতুড়ে গ্রামের দেখা মিলল ২৬ বছর পর
ছবি: পানির নিচে গ্রাম

এক ভুতুড়ে গ্রাম। এই গ্রামটি পানির নিচে রয়েছে প্রায় ৭৩ বছর ধরে। ভাবছেন তা কীভাবে সম্ভব। একটা গোটা গ্রাম কীভাবে পানির নিচে থাকতে পারে। অবশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। এই গ্রামটি ইতালিতে অবস্থিত।  এই গ্রামটিতে প্রায় ২৬ বছর ধরে পানির নিচে ডুবে আছে। শেষবার এই গ্রামটিকে ১৯৯৪ সালে দেখা গিয়েছিল। 

ফ্যাব্রিশ ডি ক্যারিন নামের এই গ্রামটি ইতালির টাস্কানি প্রদেশের 'লুক্কা' নামের অঞ্চলে অবস্থিত। এই গ্রামটি ১৯৪৭ সাল থেকেই ভাগলী ঝিলের তলায় রয়েছে। ৭৩ বছর ধরে পানির নিচে থাকা ফ্যাব্রিশ ডি ক্যারিন  নামের এই গ্রামটিকে এখনো পর্যন্ত ১৯৫৮, ১৯৭৪, ১৯৮৩ ও ১৯৯৪, মোট এই চারবারই দেখা গিয়েছে পানির উপর উঠতে।

পানি একটু কমছে  সেই সময় পর্যটকরাও সেখানে গিয়েছিলেন গ্রামটি দর্শনের জন্য। ফ্যাব্রিশ ডি ক্যারিন গ্রামটির ব্যাপারে বল হয়, এই গ্রামটি তৈরি হয়েছিল ১৩০০ শতকে। এই গ্রামে লোহার উৎপাদন হত বলে এখানে থাকতেন কামার সম্প্রদায়ের মানুষজন। কিছু মানুষ বলে থাকেন, এই গ্রামে দুষ্ট আত্মা আর ভুতেদের বসবাস ছিল, সেই কারণেই একটি ঝিল তৈরি করে গ্রামটিকে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল। 

Advertisement

এই গ্রামটি সবসময়ই ৩৪ মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানির নিচে ডুবে থাকে। এখন প্রায় ২৬ বছর বাদে এই ২০২০ সালে আবারও গ্রামটি উঠে এসেছে। ইতালি সরকারের আশা, এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে পর্যটকরা মধ্যযুগীয় এই ঐতিহাসিক গ্রামটিকে আবারো দেখতে যেতে পারবেন। ২৬ বছর পর ফের ধীরে ধীরে কম হচ্ছে ঝিলের পানি। 

পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর দেখতে এই রকম হয় ১৯৪৭ সালে এই গ্রামের উপর একটি বাঁধ তৈরি করেছিল ইনেল কোম্পানি। এখনও তারাই বাঁধটিকে রক্ষণাবেক্ষণ করে। ইনেল কোম্পানি জানিয়েছে, আমরা ধীরে ধীরে ঝিলের পানি খালি করছি , যাতে কিছুটা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা যেতে পারে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রসঙ্গত ১৯৪৭ সালে যখন এখানে হাইড্রোলিক্স বাঁধ তৈরি করা হয়, তখন এখানে বসবাসকারী মানুষদের নিকটস্থ ভাগলী ডি সোটো এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল ।
 
ফ্যাব্রিস ডি ক্যারিন গ্রামটি পানির নিচ থেকে উঠে এলে সেখানে ১৩০০ শতকের পাথরের তৈরি ইমারত দেখতে পাওয়া যায়। এই গ্রামটিতে আজও চার্চ, কবরস্থান আর পাথরের তৈরি বাড়ি রয়েছে। ভাগলী ডি সোটোর প্রাক্তন মেয়র জানিয়েছেন, যখনই পানি কম হয়ে যাবে তখন মানুষ এটি দেখতে আসতে পারবেন।

পর্যটকরা দেখছেন এই ঝিলের পানি কম হয়ে যাওয়ার পর মানুষ এই গ্রামের ভেতরেও ঢুকে ঘুরে দেখতে পারবেন। সম্প্রতি ভাগলী ডি সোটোর প্রাক্তন মেয়রের কন্যা লরেন্স জিওরজির একটি সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট ঘিরে ২০২১ এ আবারো এই গ্রামটির দেখতে পাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। জিওরজি তার টুইটার হ্যাণ্ডেলে ইতালিয়ান ভাষায় লেখেন, আমি আপনাদের জানাতে চাইছি, নির্দিষ্ট উৎস মারফত আমি জেনেছি, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে লেক ভাগলিকে খালি করা হবে। 

শেষবার এটি খালি করা হয়েছিল ১৯৯৪ সালে, তখন আমার বাবা মেয়র ছিলেন। সেইসময় ভাগলী স্বাগত জানিয়েছিল এক মিলিয়নের বেশি মানুষকে। আমি আশা করছি আগামী বছরে আবারো আমারা এর পুনরাবৃত্তি করতে পারবো।  জয়ী হব আরো আকর্ষনীয় ভাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!