ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

কেন হাতমোজা ও টুপি পরে থাকতেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ? 

সাতরং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৩০, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
কেন হাতমোজা ও টুপি পরে থাকতেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ? 
ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ছবি: সংগৃহীত

রাজা-রানিদের কথা উঠলেই প্রথমে মাথায় আসে যা খুশি তাই করার স্বাধীনতার কথা। কিন্তু অন্তত পোশাকের দিক থেকে ভাবলে, মোটেও এমন স্বাধীনতা নেই ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্যদের। অধিকাংশ সময়েই মেনে চলতে হয় কড়া পোশাকবিধি। রানি নিজেও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। কোনো লিখিত আইন না থাকলেও বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যই হয়ে গিয়েছিল নিয়ম। ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে কার্যত সমার্থক হয়ে গিয়েছিল উজ্জ্বল রঙের টুপি ও হালকা রঙের হাতমোজা। 

অল্প বয়সে রানিকে দেখা যেত সাদা গাউনেসিংহাসনে বসার পর থেকে খুব সচেতন ভাবেই নিজের পোশাক বাছতেন রানি। ১৯৪৭ সালে যুবরাজ ফিলিপের সঙ্গে বিয়ে পর থেকে নরম্যান হার্টনেল, হার্ডি অ্যামিস ও অ্যাঞ্জেলা কেলি নামের তিন পোশাকশিল্পী সামলেছেন রানির পোশাকের দায়িত্ব। অল্প বয়সে রানিকে দেখা যেত সাদা গাউনে। শেষ কয়েক দশক সেই পোশাকের বদলে অধিকাংশ সময় তাকে পরতে দেখা গিয়েছে উজ্জ্বল রঙের স্কার্ট। রাজপরিবারের নিয়ম অনুযায়ী সেই স্কার্টের দৈর্ঘ্য হতে হবে একেবারে হাঁটু পর্যন্ত। না কম, না বেশি। 

ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে দেখা যেত উজ্জ্বল রঙের স্কার্ট পড়তেতবে স্কার্ট পরলেও পা যেন অনাবৃত না থাকে কোনো মতেই, তা নিশ্চিত করতে হত। রাজপরিবারের যে কোনো নারী সদস্যেরই ‘টাইটস’ পরা বাধ্যতামূলক। টাইটস হলো এক ধরনের লম্বা পা ঢাকা মোজার মতো পোশাক যা একেবারে চামড়ার সঙ্গে লেগে থাকে। পাশাপাশি ব্রিটেনের রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ী যিনি এই টাইট পরবেন, তার ত্বকের রঙের সঙ্গে অবিকল এক হতে হবে টাইটের রং। দিন কয়েক আগে যখন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শেষ বার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল, তখনও তিনি পরেছিলেন এই পোশাক।

Advertisement

সাধারণত যে রঙের পোশাক পরতেন রানি, সেই রঙেরই টুপি পরতে দেখা যেত তাকেসাধারণত যে রঙের পোশাক পরতেন রানি, সেই রঙেরই টুপি পরতে দেখা যেত তাকে। সিংহাসনে বসার প্রথম দিকে, জনসমক্ষে আসলেই টুপি পরা ছিল বাধ্যতামূলক। কারণ ব্রিটিনের রাজকীয় আচরণশৈলী অনুযায়ী, রানির আলুলায়িত চুল দেখতে পাওয়া ঘোর অনিয়মের বিষয়। তবে কালের নিয়মে সেই রীতি বদলে গিয়েছে। শেষ কয়েক দশক ধরে আর ব্যক্তিগত পরিসরে টুপি বা মুকুট পরতেন না রানি। রাজবাড়ির কর্মচারীদের কেউ কেউ অবশ্য বলেন, টুপি পরতে মোটেই অপছন্দ করতেন না তিনি। বরং টুপি পরলে অনেকের মাঝে থাকলেও দূর থেকে দেখা যেত পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি লম্বা এলিজাবেথকে। যা বেশ পছন্দই করতেন তিনি।

যাতে অন্যের হাত থেকে রোগজীবাণু হাতে না লেগে যায় তার জন্যই নাকি হাতমোজার বন্দোবস্তহাতমোজার নিয়মটির পিছনে অবশ্য বিজ্ঞানচেতনা রয়েছে বলে দাবি করেন পোশাকশিল্পীদের কেউ কেউ। রানি প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বহু মানুষের সঙ্গে দেখা করেন, হাত মেলান। যাতে অন্যের হাত থেকে রোগজীবাণু হাতে না লেগে যায় তার জন্যই নাকি হাতমোজার বন্দোবস্ত। পোশাক পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে রং-ও ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তা বহন করে, এমন রঙের কোনো পোশাক পরা রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য একেবারে নিষিদ্ধ। যদি রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে যোগ দিতে যান, তবে অবশ্যই পরতে হবে কালো রঙের পোশাক। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও আজীবন মেনে চলেছেন এই নিয়ম।

এমনকি, নেলপলিশের ক্ষেত্রেও মেনে চলতে হত কড়া নিয়ম। মৃদু গোলাপি ছাড়া সাধারণত আর কোনো রঙের নেলপলিশ পরতেন না রানি। নেলআর্টের কথা রাজপরিবারের কেউই ভাবতে পারেন না। 

মৃদু গোলাপি ছাড়া সাধারণত আর কোনো রঙের নেলপলিশ পরতেন না রানিদীর্ঘ সাত দশক সিংহাসনে থাকার সময়, সমালোচনাও কম হয়নি রানির কিংবা রাজপরিবারের সদস্যদের এ হেন পোশাকবিধি নিয়ে। নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী পোশাক পরাই যে স্বাধীনতা অংশ, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন রানির পুত্রবধূ ডায়ানা থেকে নাতি হ্যারির স্ত্রী মেগান। তবু নিজের অবস্থান বদল করেননি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রানির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে কি শেষ হলো সেই টানাপড়েনও? উত্তর দেবে সময়ই।

সূত্র:আনন্দবাজার 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!