ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

বিজ্ঞাপন দিয়ে ডেকে এনে খুন! তারপর কী করা হত জানলে শিউরে উঠবেন

সাতরং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৬, ২২ অক্টোবর ২০২২
বিজ্ঞাপন দিয়ে ডেকে এনে খুন! তারপর কী করা হত জানলে শিউরে উঠবেন
ছবি: অন্তর্জাল

বিজ্ঞাপনদাতা পেশায় একজন কম্পিউটার মেকানিক। তার নাম আর্মিন মেইবাস। আর্মিনের জন্ম ১৯৬১। ২০০১ সালের মার্চ মাসে জার্মানিতে ‘ক্যানিবাল কাফে’ নামে একটি ওয়েবসাইটে একটি তিনি একটি অদ্ভুত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। ঐ বিজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কোনও সুঠাম সুন্দর যুবক, যে স্বেচ্ছায় জবাই হতে চায় আর হত্যার পরে যার মাংস খাওয়া হবে, এমন যে কোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন: “a well-built 18 to 30-year-old to be slaughtered and then consumed”.

অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এই উদ্ভট বিজ্ঞাপনেও সাড়া মিলল। আবেদনকারীদের মধ্যে একজনকে পছন্দও হল আর্মিনের। লোকটি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। বার্লিন থেকে এসেছে। নাম জুর্গেন ব্র‍্যান্ডিস। কিন্তু তার বয়স তেতাল্লিশ। 

এরপর যা ঘটেছিল তা ভাবলেও শিউরে উঠবে যে কেউ। জার্মানির ছোট একটি গ্রাম রটেনবার্গে দেখা করে এই দুজন। বিশটি ঘুমের ওষুধ আর এক বোতল কাফ-সিরাপ খাইয়ে ব্র‍্যান্ডিসের চেতনাকে লুপ্ত করে দেওয়া হয়। তারপর চপার দিয়ে কেটে নেয়া হয় তার পুরুষাঙ্গ। কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বলে কর্তিত পুরুষাঙ্গটিকে ছোটো ছোটো করে কেটে লবণ, রসুন আর ওয়াইন মিশিয়ে ভাজা করা হয়। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ব্র‍্যান্ডিস মারা গেছে। পরবর্তী প্রায় ১০ মাস ধরে তার মাংস খায় আর্মিন মেইবাস (Cannibalism)।

Advertisement

ছবি: ক্যানিবালিজম, জ্যান ভ্যান ক্যাসলের আঁকাআর্মিন মেইবাস ২০০২ সালে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। একই উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার বিজ্ঞাপন দেবার পর ধরা পড়ে যায় সে। এক শিক্ষার্থী  সেই খবর দেয় পুলিশকে। পুলিশ এসে তার বাড়ি সার্চ করে হাড়ের টুকরো খুঁজে পায়। ২০০৪ সালে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। আর্মিন মেইবাসকে জেলখানায় নিরামিষ খেতে দেওয়া হয়। তবে সে জানিয়েছে, জার্মানিতে এমন অন্তত ৮০০ ক্যানিবাল বা নরখাদক আছে। (Cannibalism)

মেইবাসের অনুমান যে মিথ্যে নয় তা প্রমাণিত হয় ২০২০ সালের প্রায় একই রকমের একটি ঘটনায়। যার সবটুকু জেনে বার্লিন আদালতের বিচারক ম্যাথিয়াস শার্টজ শিউরে উঠেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: ‘‘আমার তিন দশকের কর্মজীবনে এমন ঘটনা কখনও দেখিনি।’’
 
এই নরখাদক পেশায় একজন শিক্ষক। তার বয়স ৪২। তিনি স্বভাবে সমকামী। নাম, ধরা যাক স্টেফান। ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সে পছন্দের মানুষের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করত। তারপর বাড়িতে ডেকে এনে মাদক খাইয়ে হত্যা করে তার লিঙ্গ ও অণ্ডকোষ কেটে খেয়ে ফেলত (Cannibalism)। তার বিশ্বাস ছিল, পুরুষমানুষের যৌনাঙ্গ খেলে যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে একদিন স্টিফানের বাড়ির পাশের পার্কে মানুষের কিছু হাড়গোড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুরু হয় জার্মান পুলিষের তদন্ত। হাড়ের ফরেনসিক করে দেখা যায় সেগুলি ৪৩ বছর বয়সী এক নিখোঁজ ব্যক্তির। তাঁর নামে ইতিমধ্যেই নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল স্থানীয় থানায়। অতঃপর নিহতের ফোন রেকর্ড অনুসন্ধান করে নরখাদক স্টেফানের ঠিকানা খুঁজে পায় পুলিশ। বাড়ি সার্চ করে দেখা যায়, সারা বাড়িতে রক্তের দাগ আর বিশেষ ধরনের কিছু অস্ত্র। রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায় তা নিহত ব্যক্তির। প্রথমে অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত স্টেফান আদালতে স্বীকার করে, ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করে কেটে খেয়েছে সে  আদালত এই নরখাদককেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

সূত্র: দ্য ওয়াল

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!