ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

যে শহরে ছড়িয়ে রয়েছে ৭২ হাজার টন হীরা

সাতরং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৫, ২৩ নভেম্বর ২০২২
যে শহরে ছড়িয়ে রয়েছে ৭২ হাজার টন হীরা
ফাইল ছবি

প্রাচীন জার্মানির ছোট একটি শহর নর্ডলিঞ্জেন। ৮৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই শহরে মানুষের বসতি গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন যুগের নানা ঐতিহ্য বহন করছে নর্ডলিঞ্জেন।

শহর বলতে যে ছবি ভেসে ওঠে, নর্ডলিঞ্জেন ঠিক তেমন শহর নয়। একে কিছুটা মফস্‌সল বলা যায়। ইতিহাসের খনি লুকিয়ে আছে এই শহরে। ইতিহাসই শহরটিকে বিখ্যাত করে তুলেছে। নর্ডলিঞ্জেন শহরের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল হীরা। মহামূল্যবান এই রত্ন বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মতো জার্মানির এই শহরে বিরল নয়। বরং এই শহরের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে হীরা। যেন হীরা দিয়েই মুড়ে রাখা হয়েছে নর্ডলিঞ্জেন।

ফাইল ছবি কোথা থেকে এলো এই হীরা? ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞানী এবং প্রত্নতত্ত্ববিদরা গবেষণার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, এই শহরের উদ্ভব-রহস্য অনেক গভীর এবং চমকপ্রদ। দেড় কোটি বছরের পুরনো সেই রহস্যই হীরাতে মুড়েছে নর্ডলিঞ্জেনকে। বিজ্ঞানীদের দাবি, আনুমানিক দেড় কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে উল্কাপাতের ফলে এই শহরের সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল উল্কা এসে পড়েছিল জার্মানির এক প্রান্তে। তার ফলে বিশাল গর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছিল সংশ্লিষ্ট এলাকায়।

Advertisement

ঘণ্টায় ৭০ হাজার কিলোমিটার বেগে ধেয়ে এসেছিল সেই উল্কাখণ্ড। উল্কাটি ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। সেই গর্তের উপরেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাথা তুলেছে নর্ডলিঞ্জেন শহর। দাবি, উল্কাপাতের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘সুয়েভাইত’ নামে নতুন এক প্রকার পাথরের সৃষ্টি হয়েছিল। স্ফটিক, কাচ এবং হীরা দিয়ে তৈরি সেই পাথর। শহর গড়ে ওঠে সুয়েভাইত পাথরেই।

ফাইল ছবি হীরা সমন্বিত পাথর দিয়ে তৈরি হওয়ায় নর্ডলিঞ্জেন শহরে হীরার আধিক্য। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হীরা। শহরের প্রাণকেন্দ্রে যে গির্জাটি রয়েছে, তাও তৈরি হয়েছে ঐ পাথর দিয়েই। সুয়েভাইত পাথরে তৈরি সেন্ট জর্জেস গির্জায় আনুমানিক ৫ হাজার ক্যারাট হিরে রয়েছে বলে দাবি করা হয়। গবেষকদের দাবি, সমগ্র নর্ডলিঞ্জেন শহরটিতে হীরার পরিমাণ আনুমানিক ৭২ হাজার টন।

তবে নর্ডলিঞ্জেনে ছড়িয়ে থাকা হীরা এতোই সূক্ষ্ম যে, বাজারে তার মূল্য বেশি নয়। পাথরের সঙ্গে মিশে থাকায় হীরার অস্তিত্ব আলাদা করে খুঁজে পাওয়াও বেশ কঠিন। শুধু হীরা নয়, আরো একটি কারণে বিখ্যাত জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের নর্ডলিঞ্জেন শহর। শোনা যায়, নর্ডলিঞ্জেন শহরে প্রাচীন কালে মানুষ নিরাপত্তার জন্য একটি পাঁচিল বানিয়েছিলেন। দেওয়াল তুলে দিয়েছিলেন শহরের চারদিকে। শহর ঘিরে রাখা সেই দেওয়াল আজও বর্তমান। সময় তার ক্ষয় করতে পারেনি। এতটুকুও আঁচ লাগেনি মধ্যযুগীয় দেওয়ালে।

ফাইল ছবি কেন এত পুরনো দেওয়ালের গায়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোনো আঁচ লাগল না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা মতো প্রচলিত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেই রহস্য থেকে গিয়েছে অধরা। পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষের কাছে বিস্ময় জাগায় নর্ডলিঞ্জেনের প্রাচীন প্রাচীর। নর্ডলিঞ্জেন ছাড়াও জার্মানির আরো দুই শহরে এই ধরনের প্রাচীর রয়েছে। রথেনবার্গ এবং ডিঙ্কেলসবুল শহরে একই ভাবে সুরক্ষা-প্রাচীর গড়ে তুলেছিলেন প্রাচীন অধিবাসীরা। পুরনো সেই প্রাচীরও এখনও অক্ষত।

জার্মানিতে ঘুরতে গেলে পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হীরার শহর নর্ডলিঞ্জেন। প্রকৃতির কোলে হীরার পাথরে তৈরি শহর দেখতে মুখিয়ে থাকেন পর্যটকরা। নর্ডলিঞ্জেনের কাছেই রয়েছে অফনেট গুহা, যা গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষী। প্রাচীন পাথরের যুগেও যে নর্ডলিঞ্জেনের অস্তিত্ব ছিল, এই গুহাই তার প্রমাণ।

সূত্র: আনন্দবাজার

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!