অ্যালানকে আবার মৃত্যুদণ্ড দিতে যে উপায় বার করা হয়েছে সেই পদ্ধতি এর আগে কখনো কোনো মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপকের উপর প্রয়োগ করা হয়নি। বর্তমানে আমেরিকার অ্যালবামা রাজ্যের একটি কারাগারে বন্দি অ্যালান। তার বিরুদ্ধে থাকা তিনটি খুনের অভিযোগ সম্প্রতি প্রমাণিত হয়েছে। তার পরই মৃত্যুর সাজা।
কারা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, অ্যালানকে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কিন্তু সেই বিষ অ্যালানের শরীরে প্রবেশ করিয়েও তার মৃত্যু হয়নি। এমনিতেই অ্যালানের স্থূল শরীরে শিরা খুঁজে বার করতে বেশ নাকাল হতে হয়েছিল জেল আধিকারিকদের। অনেক কষ্টে শিরা খুঁজে ইঞ্জেকশনে মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রবেশ করিয়ে আধিকারিকরা অ্যালানের মৃত্যুর অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সেই বিষ তার শরীরে প্রবেশ করতেই যন্ত্রণায় কাতরাতে শুরু করেন অ্যালান।
.png)
ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করার সময় শরীরে আরো দুইটি সুচ প্রবেশ করানো হয়। এর মধ্যে একটিতে শরীর অবশ করার ওষুধ থাকে এবং অন্যটিতে সংজ্ঞাহীন করার ওষুধ থাকে। যন্ত্রণাহীন মৃত্যু নিশ্চিত করতে এই দুইটি ইঞ্জেকশন অপরাধীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। অ্যালানের শরীরেও প্রয়োগ করা হয় এই দুই ওষুধ। কিন্তু তার শরীরে ওষুধ দুইটি কাজ না করায় বিষের প্রভাবে তার শরীরে প্রচণ্ড জ্বালা শুরু হয়।
যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকেন অ্যালান। সঙ্গে সঙ্গে অ্যালানের শরীর থেকে ঐ ইঞ্জিকেশনের সুচগুলো খুলে নেন ওখানে উপস্থিত আধিকারিকরা। অ্যালানের আইনজীবীর অভিযোগ, ইঞ্জেকশন প্রয়োগের কারণে অ্যালান প্রচণ্ড মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করেছেন। আর তাই কোনো ভাবেই আর ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না।
অনেক দেশেই বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এখনও অ্যালবামার জেলগুলোতে এই উপায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সোমবার আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যালানকে আর বিষ প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। এরপরই বিষাক্ত ইঞ্জেকশনের পরিবর্তে নতুন উপায়ে অ্যালানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেল আধিকারিকরা।
কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যালানকে মৃত্যুর সাজা দিতে বিষাক্ত নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া গ্যাস প্রয়োগ করা হবে। জেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই গ্যাস প্রয়োগ করে এর আগে কাউকে কখনো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। এখনও এই গ্যাস ব্যবহারের কোনো বৈধ অনুমতি নেয় বলেও তারা জানিয়েছেন। জেলের আধিকারিকরা আরো জানিয়েছেন, অচৈতন্য অবস্থায় অ্যালানের মুখের উপর একটি মাস্ক লাগিয়ে তাকে ঐ গ্যাস নিশ্বাস নিতে বাধ্য করা হবে। এই গ্যাসের প্রভাবে অ্যালানের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে কমতে শূন্যতে ঠেকলে মৃত্যু হবে অ্যালানের। অ্যালবামার বাসিন্দাদের দাবি, বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার থেকে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অনেক মানবিক।
সূত্র: আনন্দবাজার