ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

[ সংযোগ ]

দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বাড়াতে জাগো নারীর প্রশিক্ষণ

ডেইলি বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৪৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বাড়াতে জাগো নারীর প্রশিক্ষণ
দুর্যোগে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বরগুনার তালতলীতে ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবককে তিন দিনব্যাপী উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়েছে জাগো নারী।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থেকে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বরগুনার তালতলীতে ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবককে তিন দিনব্যাপী উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগো নারী।

তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত ও সংলগ্ন জঙ্গলে ‘উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার উন্নত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জাগো নারীর বাস্তবায়নাধীন ‘প্রহর’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে উপকূলীয় এলাকার ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

প্রচলিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পরিবর্তে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে সমুদ্রসৈকত ও জঙ্গলকে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, আহত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়।

দক্ষ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবকেরা বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক অনুশীলনে অংশ নেন। এসব অনুশীলনে তাঁদের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দলগতভাবে কাজ করা এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ করে দুর্যোগের সময় সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়, আহত ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার করতে হয় এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখে অন্যের সহায়তায় এগিয়ে যেতে হয়—এসব বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয় প্রশিক্ষণে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলো প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মুখে পড়ে। এসব দুর্যোগে সরকারি সংস্থা ও পেশাদার উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো, সতর্কবার্তা প্রচার, উদ্ধার ও প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে তোলা দুর্যোগ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আয়োজকদের মতে, দুর্যোগ আঘাত হানার পর বাইরের সহায়তা পৌঁছানোর আগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাই অনেক ক্ষেত্রে প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি থাকলে তাঁরা আরও নিরাপদ ও কার্যকরভাবে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় জাগো নারী বাস্তবায়িত ‘প্রহর’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তিন দিনের এ নিবিড় ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ এলাকায় কাজে লাগাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে দক্ষ, সাহসী ও প্রস্তুত স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে তোলার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা ও সহনশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

 

 

 

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেয়ার/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!