এনআইডি জালিয়াতি, উপসচিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কুষ্টিয়া মডেল থানায় এক উপসচিবসহ পাঁচজন নির্বাচনী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ একাধিক আইনে মামলা হয়েছে।
এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) জালিয়াতি করে শত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে তুলে কুষ্টিয়া মডেল থানায় চারজনের বিরুদ্ধে ও কুমারখালী থানায় একজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শওকত কবির ও কুমারখালী কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান।
জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এই মামলা করেন। বিষয়টি রোববার জানাজানি হয়েছে।
এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) জালিয়াতি করে শত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ চেষ্টার মামলার আসামিরা হলেন, ঢাকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব নওয়াবুল ইসলাম, মাগুরা সদরের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অমিত কুমার দাস, কুষ্টিয়া নির্বাচন অফিস সহকারী জিএম সাদিক সত্যবাদী, ফরিদপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ছামিউল আলম।
ছামিউল আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কুমারখালী থানায় এবং অন্য চারজনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায়।
কুষ্টিয়া নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের ১১০ এনএস রোডের বাসিন্দা এমএমএ ওয়াদুদ ও তার পরিবারের আরো পাঁচ সদস্যের নাম ও তথ্য ব্যবহার করে ছয় ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে শতকোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। সংবাদমাধ্যমে গত বছরের শেষের দিকে এ সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে। পরে ঘটনা তদন্তে নামে নির্বাচন কমিশন।
তদন্তে কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন অফিসের তৎকালীন কর্মরত পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেয়।
দুই থানা সূত্রে জানা যায়, ভোটার তালিকা আইন, ২০১৯–এর ধারা ২০, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০–এর ধারা ১৭ ও ১ পেনাল কোডের ১৮৬০ সালের ধারা ৪২০, ৪৬৮ ও ১০৯ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সালের ২৪, ৩৩ ও ৩৫ ধারায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করা হয়। পাশপাশি ভোটার তালিকা আইন, ২০১৯–এর ধারা ১৮, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০–এর ধারা ১৭ ও ১ পেনাল কোডের ১৮৬০ সালের ধারা ৪২০, ৪৬৮ ও ১০৯ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সালের ২৪ ও ৩৫ ধারায় মামলা করা হয় কুমারখালী থানায়।
কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা এম এম এ ওয়াদুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম ও তথ্য দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ছয় ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণের অভিযোগসংক্রান্ত তদন্তে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় মামলা হয়েছে।
জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) জালিয়াতি করে শত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেন। তদন্তে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ মোতাবেক প্রথমে আদালতে মামলা করি। পরে আদালত তাকে থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী আমি গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ায় এবং কুমারখালী থানায় বিকেলে তাদের নামে মামলা করেছি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শওকত কবির বলেন, এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) জালিয়াতি করে শত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি মামলা করেছেন। আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।