ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

তিন সন্তান নিয়ে প্রতিবন্ধী রোকেয়ার মানবেতর জীবন

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ৮ নভেম্বর ২০২৬
তিন সন্তান নিয়ে প্রতিবন্ধী রোকেয়ার মানবেতর জীবন
লালমোহনে ঝুপড়ি ঘরের সামনে ছোট সন্তান কোলে প্রতিবন্ধী রোকেয়া। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এক বছর আগে কিছু না বলেই হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান স্বামী। এখন তিনি কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন- কিছুই জানেন না তিন সন্তানের জননী প্রতিবন্ধী রোকেয়া। এরপর থেকে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন তার। প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের কাজ করার সামর্থ্য নেই। নেই মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁইও। অন্যের দয়ায় পাওয়া একটি ঝুপড়ি ঘরেই কোনো রকমে তিন সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রোকেয়া।

এমন করুণ দশা ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খালের পাড়ের বাসিন্দা মো. ইসমাইলের স্ত্রী প্রতিবন্ধী রোকেয়ার।

তিনি জানান, আমি একজন প্রতিবন্ধী। আমার তিনটি সন্তান রয়েছে। এক বছর আগে আমার স্বামী ইসমাইল আমাদের সবাইকে ফেলে চলে গেছেন। তিনি কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, কিছুই জানি না। পাশের বাড়ির এক আত্মীয়ের দয়ায় তাদের খালি একটি ঝুপড়ি ঘরে সন্তানদের নিয়ে থাকি। মানুষের কাছ থেকে যা পাই, তা দিয়েই কোনোমতে বেঁচে আছি। প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো কাজও করতে পারি না। প্রতিবন্ধী ভাতাও পাইনি। এলাকার বিত্তবান ও প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন আমার তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে একটু সহযোগিতা করেন।

প্রতিবন্ধী নারী রোকেয়া আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে অনেকেই সরকারি কার্ড ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে কেউ আর খোঁজ নেননি। ফলে সন্তানদের খাবার জোগাড় করা থেকে শুরু করে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও দুঃখজনক। ওই অসহায় প্রতিবন্ধী নারী ও তার সন্তানদের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার প্রতিবন্ধী কার্ডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!