মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের এসপি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত গৃহবধূ সেলিনা গুরুদাসপুর পৌর সদরের উত্তর নারিবাড়ী মহল্লার নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
.png)
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি লিটন কুমার সাহা জানান, তিনমাস আগে মালয়েশিয়া প্রবাসী খালাতো ভাই সোহেলের সঙ্গে ববির বিয়ে হয়। স্বামী দেশে ফেরার আগে তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য মাকে চাপ দেন ববি। কিন্তু মা সেলিনা তাতে পাত্তা না দিয়ে তাকে গালিগালাজ করতেন। এমনকি ক্ষোভ প্রকাশ করে মরতেও বলতেন। তাই তিনি বিরক্ত হয়ে সোমবার বিকেলে নিজের মাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। সেলিনা ঘুমিয়ে গেলে ব্লেড দিয়ে তার গলাকেটে হত্যা করেন ববি।
হত্যার ঘটনা জানতেই এএসপি সার্কেল জামিল আখতার ও গুরুদাসপুরের ওসি আব্দুর রাজ্জাক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এসময় বাড়ি তল্লাশি করে ববির ব্যাগ থেকে তার মায়ের সব গহনা ও নগদ ১৬ হাজার ৭০০ টাকাসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ব্লেড উদ্ধার করা হয়। তখন ববিকে সন্দেহমূলকভাবে জিজ্ঞাসা করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
স্থানীয়রা জানান, স্বপ্না ও ববি দুই বোন। এর আগে ফুফাতো ভাই সোহেলের সঙ্গে ববির বিয়ে হয়। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে রাজবাড়ির পাংশা উপজেলার প্রবাসী খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দ্বিতীয় স্বামীর নামও সোহেল। এলাকায় এ ধরনের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড আগে ঘটেনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, সেলিনার লাশ নাটোর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই সুলতান আহমেদ খান গুরুদাসপুর থানায় ববির বিরুদ্ধে বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ববিকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।