ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

১৩ বছর পর জীবিত ফিরলেন ‘গুম’ হওয়া রুবেল 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৪৩, ২১ মে ২০২১
১৩ বছর পর জীবিত ফিরলেন ‘গুম’ হওয়া রুবেল 
১৩ বছর পর ‘গুম’ হওয়া রুবেল ওরফে আল আমিন জীবিত ফিরে এসেছেন।

১৩ বছর পর ‘গুম’ হওয়া রুবেল ওরফে আল আমিন জীবিত ফিরে এসেছেন। রুবেল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীর টেকের কুড়েরপাড় এলাকার বাসিন্দা।

গুমের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুইজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৯ জনকে আসামি করে ২০০৭ সালে মামলা করা হয় । মামলায় ৬ থেকে ৭ আসামি জেলও খেটেছে। এর মধ্যে গত বুধবার রাতে রুবেল বাড়িতে ফিরে আসেন। 

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার আসামিরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে যান। এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার দাবি করেছেন। 

Advertisement

রুবেল জানান, মা রহিমা খাতুনের মারধর ও ক্ষুধার যন্ত্রণায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে যান। পরে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে কমলাপুর যান। সেখানে দীর্ঘদিন মানুষের কাছে হাত পেতে খেয়ে বেঁচে ছিলেন। এরপর এক লোকের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর ওই লোক রামপুরা একটি হোটেলে কাজ নিয়ে দেয়।

এরপর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজ করেন। বর্তমানে মগবাজার মধুবাগ হাতিরঝিল সংলগ্ন মসজিদের পাশে ভাড়ায় বসবাস করে সেখানেই রং মিস্ত্রির কাজ করছেন। মগবাজারে রং মিস্ত্রি আল আমিন নামে পরিচিত। 

রুবেল জানান, বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ১০ বছর পর তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। কুঁড়েরপাড় আসতে চাইলে মা বলেন এলাকায় গেলে তাকে মেরে ফেলবে। গত ৬ বছর ধরে এলাকায় যেতে চাইলেও মা তাকে আসতে দেননি। এক পর্যায়ে তার মাকে না জানিয়েই বুধবার রাতে কুঁড়ের পাড় নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার আসামিরা বিষয়টি জানতে পেরে রুবেলকে আটক করেন। মামলার বাদী রহিমা খাতুন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পলাতক রয়েছেন। রুবেলের বাবার নাম জানু মিয়া।

জানা গেছে, মামলার বাদী রহিমা খাতুন এলাকায় মামলাবাজ নারী হিসেবে পরিচিত। মিথ্যা মামলা থেকে তার আত্মীয়-স্বজনকেও ছাড় দেয়নি। মিথ্যা মামলা করে টাকা হাতিয়ে নেয়াই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সদর মডেল থানার ওসি শাহ জামান জানান, ১৩ বছর পর ফিরে আসা রুবেলকে বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসী থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর আইনের বিধান অনুযায়ী বাদীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!