বুধবার বিকেলে কক্সবাজার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোসলেহ উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
এসময় রায় ঘোষণাকালে সাজাপ্রাপ্তরা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শফিউল হক।
.png)
এছাড়া এই মামলায় আরো অভিযুক্ত ৫ জনকে বেখসুর খালাস দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন নারী নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সিকদার।
দণ্ডিতরা হলেন, মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা সিকদার পাড়া এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলাম সওদাগরের ছেলে আবদুর রাজ্জাক (৪২) ও ডা. নুরুল আমিনের ছেলে আতা উল্লাহ ওরফে ননাইয়া (৪৩)। তারা দুই জন চাচাতো জেঠাত ভাই।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০২ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পি.এম,খালী ইউনিয়নের ধাওনখালী এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষকের নাবালিকা স্কুল পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে দিনে-দুপুরে জোরপূ্র্বক অপহরণ করে প্রাইভেট কার যোগে ঢাকায় নিয়ে যান অভিযুক্তরা।
সেখানে কয়েকদিন রাখার পর পুনরায় কক্সবাজার শহরে নিয়ে এসে ইউনাইটেড হোটেলে রাখে। ভিকটিম চিৎকার দিলে লোকজন জড়ো হয় এবং পুলিশ এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। পরে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মহেশখালীর গোরকঘাটা সিকদার পাড়ার আতা উল্লাহ ওরফে ননাইয়া,তার জেঠাত ভাই আবদুর রাজ্জাকসহ ৬থেকে ৭ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সিকদার বলেন, তদন্ত শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘ নানা কার্যক্রম ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে দুই আসামীর বিরুদ্ধে বাদীর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক দুই আসামীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রচার করেন।