অপারেশনের মাধ্যমে সেই গুলি বের করতে দেড় লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানায় চিকিৎসকরা। কিন্তু কুলসুম কোথায় পাবে সেই দেড় লাখ টাকা। তাই সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সরেজমিনে সুলতানপুরে গিয়ে কথা হয় পরিবার পরিজন ও আশপাশের স্বজনদের সঙ্গে। জানা যায়, কুলসুমের পরিবারের দু:খ দুদর্শার কথা। জেলার পলাশ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সুরুজ মিয়ার মেয়ে কুলসুম। বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে মোক্তারপুর গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর মাত্র তিন বছর মোক্তারপুর থেকে স্বপরিবারে চলে আসেন সুলতানপুরে।
.png)
এখানে সংসার জীবনে তিন তিনটি সন্তান লাভের পর সবাইকে ছেড়ে চলে যায় স্বপন মিয়া। এ অবস্থায় বাড়ির পাশে রাস্তায় বসে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায় কুলসুম। কিন্তু তাতেও তাদের সংসারে ভরণ পোষনে কষ্ট হয়।
এ অবস্থায় জীবনের গতি পরিবর্তন করতে প্রথমে পাড়ি জমান দুবাই। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে চলে আসেন দেশে। পরবর্তীতে মামাতো বোন কারিমার প্রলোভনে ২০১৯ সালে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে গৃহকর্মীর ভিসা নিয়ে পাড়ি দেন লেবানন। সেখানে মালিকের কাজ শেষে নিজ বাসায় ফেরার পথে লেবাননের হারব এলাকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে ফিলিস্তিনিদের উত্তেজনায় গুলিবিদ্ধ হন কুলসুম বেগম।
গুরুতর আহত কুলসুম লেবাননের রেডক্রসের সহায়তায় বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা শেষে কিছুটা শঙ্কামুক্ত হওয়ায় দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় কুলসুমকে। পরবর্তীতে বিমান বন্দর থেকে নিজ গ্রামে এনে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে ওকাপ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা।
গুলিবিদ্ধ কুলসুম বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, পেটের ভেতর গুলি থাকায় ব্যথার যন্ত্রনা সহ্য করা যাচ্ছে না। এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ খেতে বলেছেন ডাক্তার। কিন্তু যেখানে খাবারই জোটে না সেখানে ওষুধ পাবো কোথায়? আর পেট থেকে অপারেশনের মাধ্যমে গুলি অপসারণ করতে গেলে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কুলসুম টাকা জোগার করার উপায় না দেখে সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেছেন।
কুলসুম বেগমের একমাত্র মেয়ে পান্না বেগম জানান, মাকে সুস্থ করতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তাসহ সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চাই। কারণ মা ছাড়া আমাদের দুনিয়াতে আর কেউ নেই। আমাদেও বাবা নেই, নানা-নানি কেউ নেই। আমরা কোথায় যাবো কার কাছে থাকব। তাই মাকে সুস্থ করতে সবার সহায়তা চাই।
বেসরকারি সংস্থা ওকাপের মাঠকর্মী মনিরা বেগম জানান, গুলিবিদ্ধ কুলসুমকে বিমানবন্দর থেকে গ্রামে আনা ও প্রাথমিক পরীক্ষা নীরিক্ষার ব্যয়ভার বহন করেছে এনজিও ওকাপ। তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দেন এনজিওর কর্মকর্তারা।
কুলসুমের বিষয়ে স্থানীয় চরসিন্দুর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন রতন জানান, সুলতান পুর গ্রামের কুলসুম বেগম গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেশে এসেছেন। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকের মাধ্যমে দেখেছি। পরে তিনি আমার কাছে আসার পর কুলসুমের পরিবারের জন্য কিছু সহায়তা করেছি। আর সামনে চিকিৎসার জন্য পরিষদের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সহায়তার করা হবে।
নরসিংদী জেলা জনশক্তি জরিপ কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ শিকদার জানান, লেবানন থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জেলার পলাশ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কুলসুম নামে এক নারী তার চিকিৎসার জন্য আমাদের কাছে আবেদন করেছেন। তার আবেদন যাচাই বাছাই শেষে ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি এই সহায়তা পেয়ে যাবেন। সরকাি-বেসরকিরি সহায়তায় কুলসুমের অপারেশনের মাধ্যমে আবার সুস্থ জীবনে ফিরে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা পরিবারসহ প্রতিবেশীদের।