ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কবিতা প্রকাশের জন্য ধরনা দিয়ে ক্লান্ত কবি

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১৫, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
কবিতা প্রকাশের জন্য ধরনা দিয়ে ক্লান্ত কবি
গীতিকার ও কবি আবু বক্কর সিদ্দিক

ভালো নেই বিটিভির তালিকাভুক্ত গীতিকার ও কবি আবু বক্কর সিদ্দিক। নরসিংদীর এই কবির বিপুল রচনা অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। নিজের লেখা কবিতা প্রকাশের জন্য জনে জনে ধরনা দিয়ে এখন ক্লান্ত তিনি।

নরসিংদীর রায়পুরায় ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম এই কবির। এ পর্যন্ত তার লেখা গজল, গান, লোকগীতি, বিচ্ছেদী, মুর্শীদি, গজল, হামদ-নাত, গীতি-কবিতার সংখ্যা প্রায় কয়েক হাজার। সুরকার হিসেবেও খ্যাতি আছে। তার লেখা গান ও গজলে কণ্ঠ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন ভৈরবী, মাওলানা মোজাম্মেল হক, ফরিদা পারভীন, মনির, মোস্তফা প্রমুখ।

জীবনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাননি এখনো। কিন্তু এই দারিদ্র্য তার মননে দারিদ্র্য আনতে পারেনি কখনো। ছোটবেলা থেকেই তিনি নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখিতে ছিলেন পারদর্শী। গ্রামের পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে নির্জনে বসে আপন মনে তিনি কবিতা লিখতেন। ১৯৭০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে পড়ার সময়েই আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ পরিকল্পনা রচনা প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আহত হন। এরপরও থেমে থাকেনি তার কলম। ২০০৫ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) তালিকাভুক্ত গীতিকার হন।

Advertisement

আবু বক্কর সিদ্দিকের লেখা ৩৫টি গজল নিয়ে ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় ‘নবীর প্রেমে পাগল’ নামের একটি অ্যালবাম। তাঁর প্রকাশিত অডিওর সংখ্যা ২৩৫ টি, সিডির সংখ্যা ১৮ টি। আর অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির সংখ্যা শতাধিক। প্রকাশের পথে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু এই লেখাগুলো প্রকাশের জন্য তাকে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। পাণ্ডুলিপিগুলো অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থেকে এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ আবু বক্কর সিদ্দিকের লেখনিতে মুগ্ধ হয়ে জাতীয় পদকপ্রাপ্ত হাবিবুল্লাহ পাঠান ‘নরসিংদীর লোক-কবি’ বইয়ে তার (আবু বক্কর সিদ্দিক) কর্মময় জীবন নিয়ে লিখেছেন।

অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে এখন দিন কাটছে আবু বক্কর সিদ্দিকের। স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার পরিবার। রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামে (রামনগর) কবি আবু বক্কর সিদ্দিকের ঘরে ঢুকতেই দেখা যায়, মেঝেতে বসেই খাতায় লিখছেন তিনি।

তিনি বলেন, 'অসংখ্য অপ্রকাশিত গান, কবিতা, গজল, কাব্যগ্রন্থ ভাঙা ঘরে অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। টাকার অভাবে এগুলো প্রকাশ করতে পারছি না। সর্বশেষ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান কাব্যগ্রন্থ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান এক প্রকাশকের কাছে দিয়েছিলেন। মিলি ভাবি দেশের বাইরে থাকায় আমার বইটি প্রকাশক আটকে দেন। তিনি (প্রকাশক) আমার কাছ থেকে টাকা চাইছেন। এই টাকা আমি কী করে দিব? আমি তো নিজেই চলতে পারছি না। 

ওই গ্রামের বাসিন্দা অলি মাহমুদ বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিকের চমৎকার লেখনিতে মুগ্ধ হয়ে যাই। এমন কীর্তিমান লেখকের মৃত্যুর পর আমরা হয়তো তার মূল্যটা বুঝতে পারব।

স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জানান, আবু বক্কর সিদ্দিক রচিত গজল গেয়ে মৌলভী তোফাজ্জল ভৈরবী সারা দেশে জনপ্রিয় হয়েছেন। অনেক বড় বড় গুণী শিল্পী তার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়ে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন। অথচ আবু বক্কর সিদ্দিক পড়ে রইলেন দুঃখ-দুর্দশার মাঝে। তিনি খুবই অসহায় জীবনযাপন করছেন। এমন গুণীজনকে কেউ ভালো করে চিনতেও পারেনি। টাকার অভাবে তার বইগুলো আজও অপ্রকাশিত। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!