মৃত সুমন মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী বাজার এলাকার সনু মিয়ার ছেলে এবং শিবপুর উপজেলার উত্তর সাধারচর ইউনিয়নের চরখুপি এলাকার জামাই। সুমনের ৭ বছর, ৪ বছর এবং ১ মাস বয়সী তিন ছেলে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মৃতের শ্বশুরবাড়ির স্বজনরা জানাযন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সুমন তার শ্বশুরবাড়ি চরখুপি এলাকা থেকে তার সদ্য জন্ম নেওয়া (১ মাস বয়সী) শিশু সন্তানকে রেখে নিজ বাড়ি গোপালদীর উদ্দেশ্য রওনা হয়। পথিমধ্যে গাড়ি না পেয়ে হেঁটে রাত ৯টার দিকে পলাশ উপজেলার মালিতা এলাকায় পৌঁছালে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। ওই সময় সুমন পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের চালার নিচে আশ্রয় নিলে সেখানের লোকজন তাকে চোর সন্দেহে আটক করে বেদম মারধর করে।
.png)
এ ঘটনার পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সুমনকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিনশত গজ দূরে রাস্তার পাশে নদীর তীরবর্তী স্থানের একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে নিজের গায়ের শার্ট দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
সুমনের স্ত্রীর বড় ভাই জামাল মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সুমনের মৃত্যুর খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এসে দেখি আমার ভগ্নিপতির নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে। তার ডান পা ভাঙাসহ হাঁটুর নিচে আঘাতের চিহ্ন এবং মুখের কয়েকটি দাঁত ভাঙা ছিল। আলামত দেখে কোনোভাবেই এটিকে আত্মহত্যা বলা যায় না। তারা আমার ভগ্নিপতিকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। হত্যার পর টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করে সেটাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত পলাশ থানা পুলিশের এসআই মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটি থেকে এসে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান। ছুটি শেষে গত বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আমরা আমার ভগ্নিপতির মৃত্যুর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এসআই মামুন আমাদের একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। এতে আমরা অস্বীকৃতি জানালে আমরা মামলায় উল্টো ফেঁসে যাব এবং আসামিরা আমাদের নামে মামলা করবে বলেও তিনি আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। তবে আমরা স্বাক্ষর না করে চলে আসি। এ ব্যাপারে কোর্টে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুমনের মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
পলাশ থানার ওসি ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করি। ময়নাতদন্তের পর আত্মহত্যার বিষয়ে রিপোর্ট এসেছে। এ ছাড়া পিবিআইও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে বিষয়টি তিনি আরো খতিয়ে দেখবেন।