এছাড়া দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় যে কেনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনাসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, গয়হাটা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. হৃদয় মিয়া পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় তিন বছর আগে সৌদি চলে যায়। প্রবাসে থাকা অবস্থায় তার বাবা একই গ্রামের আব্দুল সালামের কিশোরী মেয়ের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে ৫ লাখ টাকা কাবিন ধার্য্য করে ও মোবাইল ফোনে ছেলে হৃদয়ের বিয়ে দেন। বিয়ে পর প্রায় এক মাস ১৬ দিন স্বামীর বাড়িতে সংসার করেন ওই কিশোরী। স্বামী প্রবাসে থাকাবস্থায় বাবা ও ভাই প্ররোচনায় স্বামী হৃদয়কে তালাক দেন ওই স্ত্রী।
.png)
এরপর ছেলের জন্য আবার মেয়ে দেখা শুরু করেন হৃদয়ের বাবা মা। উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের আগতগয়হাটা গ্রামে পুনরায় মোবাইল ফোনে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা কাবিনের মাধ্যমে প্রবাসী হৃদয় মিয়াকে ২য় বিয়ে দেন তারা। হৃদয়ের আসার খবর শুনে গত রোববার বিবাহ বিচ্ছেদের পরও ওই স্ত্রীর বাবা সালাম ও তার মাদকসেবী ভাই রুবেল মিলে ওই কিশোরীকে আবার হৃদয়ের বাড়িতে পাঠায়। আবার বিয়ের দাবিতে বর্তমানে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই কিশোরী। এদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মা ঘটনা জানতে পেরে তাদের মেয়েকে বাড়িতে আনার জন্য অনুরোধ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী আরো জানান, প্রথম স্ত্রীর বাবা সালাম একজন চিহিৃত চোর আর তার ভাই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী। প্রতিনিয়ত তাদের অপকর্মে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কায়কোবাদ জানান, হৃদয় গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সংবাদ পেয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের পরও প্রথম স্ত্রী ৬দিন ধরে স্বামী হৃদয়ের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়াও দফায় দফায় বসছে সালিশ বৈঠক। এ কারণে গ্রামটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হাকিম মাস্টার বলেন, আগে বা পরের বিয়ের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানতাম না। তবে এখন গ্রামে দলে দলে লোকজন আসায় বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। সামাজিকতা নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় ছেলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিককে দ্রুত বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আগামী রোববার সালিশ বৈঠক বসবে।
হৃদয়ের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমার ছেলে প্রবাসে থাকাবস্থায় প্রায় দুই বছর আগে একই গ্রামের আব্দুল সালামের মেয়ের সঙ্গে ৫ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস স্বামীর বাড়ীতে থেকে নিজ বাড়িতে গিয়ে আমার ছেলেকে তালাক দেয়। এরপর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবার ওই ইউনিয়নের আগতগয়হাটা গ্রামে ছেলের বিয়ে দেন। তবে হৃদয় আসার খবর পেয়ে প্রথম বউ আবার আমার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। দুই বউয়ের পরিবারের চাপে আছি। সামাজিক ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
তবে মুঠোফোন ব্যবহার না করায় প্রথম স্ত্রীর বাবা সালাম এর বক্তব্য নেয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের বক্তব্যও।
বিষয়টি অবগত নয় বলে জানিয়েছেন গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান আসকর।
এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন নাগরপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।