ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সিরাজগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় গর্ভবর্তীর মৃত্যু!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:২৩, ২৭ অক্টোবর ২০২১
সিরাজগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় গর্ভবর্তীর মৃত্যু!
মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল: ফাইল ফটো

সিরাজগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের মালিক ডা. মো. আব্দুল আজিজ সরকারের ছোট ভাই মো. আব্দুল রাজ্জাককে মারধর ও হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে মৃতের স্বজনরা। তবে এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের সব স্টাফ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গা ঢাকা দিয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিলুফা ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়।

Advertisement

নিলুফা ইয়াসমিন জেলার তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের উত্তর মথুরাপুর গ্রামের শামসুল হোসেনের মেয়ে। পেশায় একজন নার্স ছিলেন বলে তার স্বামী মো. রুবেল জানিয়েছেন। 

মো. রুবেল হোসেন বলেন, দুপুরের দিকে স্ত্রীকে নিয়ে এসে এখানে ভর্তি করি। তখন তাকে সব প্রকার টেস্ট করলে সে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে মর্মে রিপোর্ট আসে। এছাড়া আমার স্ত্রী পেশায় একজন নার্স হওয়ায় তিনি স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন। তাকে আগে থেকেই নিয়মিত পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হতো। তারা আজ সিজার (অপারেশন) করবেন জানিয়ে আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ৭টার দিকে রোগী মারা গেছেন বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়। 

হাসপাতালের মালিক ডা. আব্দুল আজিজ অপারেশন করতে চেয়েছিলেন জানিয়ে তার স্বামী আরো বলেন, ডাক্তার আজিজ সবকিছু ঠিকঠাক আছে জানিয়েই তাকে অপারেশনের জন্য নিয়ে যান। কিন্তু এখন তাকেসহ হাসপাতালের কোনো স্টাফকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মৃতের বড়ভাই আল আমিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, হাসপাতালে অজ্ঞান ডাক্তার আসার আগেই নার্সরা ইনজেকশন দিয়ে আমার বোনকে মেরে ফেলেছে। 

তিনি বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা আমার বোনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিন্তু তখনো অজ্ঞান করার ডাক্তার (এনেস্থিসিয়ান) আসেনি। তারও ১ঘণ্টা পরে অজ্ঞান করার ডাক্তার (এনেস্থিসিয়ান) আসেন। এর ৩০মিনিট অর্থাৎ রাত সাড়ে ৭টার দিকে বলা হয় আমার বোন মারা গেছেন।

তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হাসপাতালের মালিক ও অভিযুক্ত ডা. আব্দুল আজিজকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। 

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম হীরা বলেন, বিষয়টি আমি মাত্রই অবগত হলাম। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রাম পদ রায় বলেন, আমি একটু আগেই বিষয়টি জানলাম। বিষয়টির তদন্ত করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী কোনো সত্যতা মিললে সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তাফা বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ আসলে সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!