বিসিএস পরীক্ষার্থী আব্দুস সামাদসহ বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে ভোলার মনপুরা লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে তাসরিফ-২ লঞ্চে ওঠেন তারা। লঞ্চটি মনপুরা থেকে ছেড়ে ভোলার তজুমদ্দিন, হাকিমউদ্দিন, দৌলতখান ও সদরের ইলিশা বিশ্বরোড ঘাটে ভিড়ে যাত্রী উঠিয়ে সন্ধ্যার দিকে ঢাকায় রওনা হয়। লঞ্চে হাতিয়া, মনপুরা, তজুমদ্দিন, হাকিমউদ্দিন, দৌলতখান ও ভোলা সদরের শতাধিক বিসিএস পরীক্ষার্থী ছিলেন।
বিসিএস পরীক্ষার্থী সামাদ বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুরের কাছাকাছি পৌঁছে লঞ্চটি আবার ঘুরিয়ে হাকিম উদ্দিন লঞ্চঘাটে চলে আসে। হাকিমউদ্দিন ঘাটে যখন পৌঁছে তখন রাত ১২টার বেশি বেজে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে আমরা লঞ্চ স্টাফ ও সুপারভাইজারদের জিজ্ঞাসা করলে লঞ্চ তাসরিফ-৪ এর সমস্যা হওয়ায় যাত্রীদের নিতে এসেছি বলে জানান তারা।
.png)
এ সময় আমরা পরীক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে শুক্রবার সকাল ৭টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন লঞ্চ স্টাফ ও সুপারভাইজার। কিন্তু লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছে প্রায় ১০টার দিকে। পরে আমরা সবাই লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় না জড়িয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য দ্রুত নেমে পড়ি। কিন্তু আমাদের পরীক্ষার্থীদের একেক জনের হল একেক স্থানে হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারিনি। পরে আমরা দুপুরের দিকে তাসরিফ-২ লঞ্চে উঠে লঞ্চের স্টাফ ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে কথা বললে তারা আমাদের বিনা খরচে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তাসরিফ-২ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জামাল দোষ স্বীকার করে বলেন, হাকিমউদ্দিন ঘাটে আমাদের আরেকটি লঞ্চ তাসরিফ-৪ চরে আটকে যায়। ওই লঞ্চে অনেক বিসিএস পরীক্ষার্থী ও কয়েকজন গুরুতর রোগী ছিলেন। ওই লঞ্চটি সমস্যা হওয়ায় আমরা বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ ঘাট থেকে লঞ্চ ঘুরিয়ে হাকিমউদ্দিন ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হই। দুপুরের দিকে পরীক্ষার্থীরা আমাদের কাছে এসে বলেন তারা বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরে আমরা বিনা টাকায় তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেই।