ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নার্স-স্টাফের গড়িমসি, অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করে মরল নবজাতক

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১২, ১৯ নভেম্বর ২০২১
নার্স-স্টাফের গড়িমসি, অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করে মরল নবজাতক
হাসপাতালের সামনে মৃত নবজাতকের স্বজনরা

সিলিন্ডারে অক্সিজেন শেষ। অক্সিজেন কম পাওয়ায় ছটফট করছিল চারদিনের কন্যা নবজাতকটি। স্বজনরা ছুটে গিয়েছিলেন হাসপাতালের নার্স-স্টাফদের কাছে। কিন্তু প্রথমে তাদের কথা আমলে নেননি কেউ। গড়িমসি করে প্রায় এক ঘণ্টা পর অক্সিজেন দিতে নবজাতকের কাছে আসেন নার্স-স্টাফরা। কিন্তু ততক্ষণে মারা গেল নবজাতক।

শুক্রবার দুপুরে এমনই ঘটনা ঘটেছে বগুড়া সদরের কলোনি এলাকার রেইনবো কমিউনিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে। এর আগে, বুধবার রাতে নবজাতককে ভর্তি করানো হয়। তার ফুসফুসে সমস্যা ছিল। মৃত নবজাতকের বাবার নাম সোহেল রানা। তিনি বগুড়ার সারিয়কান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ঘুঘুমাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

নবজাতকের বাবা বলেন, মঙ্গলবার জেলার শেরপুর উপজেলার একটি ক্লিনিকে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন আমার স্ত্রী। জন্মের পর থেকেই মেয়েটির ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়। পরে তাকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু শজিমেকে বাচ্চাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় বুধবার রাতে তাকে রেইনবো হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

Advertisement

সোহেল রানা বলেন, রেইনবো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে আমার মেয়ের একবার শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। ওই সময় সিলিন্ডারে অক্সিজেনও কমে গেছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে গড়িমসি করার পর অক্সিজেন সরবরাহ করে। ওই সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে অক্সিজেন সরবরাহ এখন থেকে ঠিকমতো দেওয়া হবে। এমন সমস্যা আর হবে না। কিন্তু শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে আমার মেয়েকে দেওয়া অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। আমার মেয়ে ওই সময় ছটফট শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরা নার্স-স্টাফদের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান। কিন্তু তারা আমলে নেননি। এক ঘণ্টা পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সরবরাহ করতে এসে দেখেন আমার মেয়ে মারা গেছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালটির ম্যানেজার রূপক হাসান দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুত রয়েছে। বাচ্চাটি ফুসফুসের সমস্যায় মারা গেছে।

বগুড়া বনানী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!