ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নেত্রকোণায় বাবা-ছেলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মা রিমান্ডে

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫৪, ২২ নভেম্বর ২০২১
নেত্রকোণায় বাবা-ছেলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মা রিমান্ডে
নিহত আবদুল কাইয়ুম সরদার ও তার ছেলে আহনাব শাকিল

নেত্রকোণার একটি বাসা থেকে বাবা-ছেলের লাশ উদ্ধারের পর করা মামলায় শিশুটির মাকে দুইদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। রোববার সন্ধ্যায় শুনানি শেষে নেত্রকোণার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল ম্রং এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ।

তিনি জানান, আবদুল কাইয়ুম সরদার ও তার দুই বছরের ছেলে আহনাব শাকিলের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার বিকালে কাইয়ুম সরদারের ছোট ভাই মোস্তফা আহমেদ হত্যা মামলা করেন। এতে কাইয়ুমের স্ত্রী সালমা খাতুনসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার সালমাকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় শুনানি শেষে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

Advertisement

এদিকে মৃত্যুর আগে বুধবার রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে কাইয়ুম তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর নেত্রকোণা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রশিদের কাছে পাঠানো ই-মেইল নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। রোববার সকালে ই-মেইলটি পুলিশের হাতে আসে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নেত্রকোণা শহরের নাগড়া এলাকার পাঁচতলা একটি ভবনের চারতলা থেকে পুলিশ আবদুল কাইয়ুম সরদার ও তার দুই বছরের ছেলের লাশ উদ্ধার করে। তখন আবদুল কাইয়ুমের স্ত্রী সালমা খাতুন জানিয়েছিলেন, বুধবার রাতে খাবার খেয়ে তারা এক বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় জেগে উঠে পাশের কক্ষে একটি ফ্যানের সঙ্গে স্বামী ও সন্তানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তিনি। পরে রশি কেটে লাশ দুটি নামিয়ে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান।

আবদুল কাইয়ুম সরদার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার গোপালের খামার গ্রামের আক্কাস সরদারের ছেলে। তিনি নেত্রকোণায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। শহরের নাগড়া এলাকার ওই বাসার চারতলার ডি-৩ ইউনিটে স্ত্রী-সন্তানসহ ভাড়া থাকতেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ফকিরগঞ্জের আসাদ আলীর মেয়ে সালমা খাতুনকে বিয়ে করেন কাইয়ুম। ওই বছরের ডিসেম্বরে তাদের ছেলের জন্ম হয়।

নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, আমরা বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। ই-মেইলে আবদুল কাইয়ুম বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজেকে অসহায় উল্লেখ করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার কথা লিখেছেন। কিন্তু কেন তিনি এসব লিখেছেন, ছেলেকে হত্যার পর কাইয়ুম আত্মহত্যা করেছেন কিনা, নাকি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আত্মহত্যা করে থাকলে কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন বা হত্যা হয়ে থাকলে কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এতে আরো কেউ জড়িত কিনা এসব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী সালমাকেও এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমরা শিশুটি ও তার বাবার ডিএনএ নমুনা, ভিসেরা নমুনা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠিয়েছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!