ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কক্সবাজারে এক সপ্তাহে ৩ হাতির মৃত্যু

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৩ নভেম্বর ২০২১
কক্সবাজারে এক সপ্তাহে ৩ হাতির মৃত্যু
ফাইল ছবি

এক সপ্তাহে কক্সবাজারের বনাঞ্চলে তিনটি বন্যহাতি হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন। সংগঠনগুলো এসব হাতিকে বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে হত্যার দাবি করলেও বনবিভাগ বলছে হাতিগুলোর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে গত এক বছরে এ অঞ্চলে ১৮টি বন্যহাতি বিভিন্নভাবে মারা গেছে।

বনবিভাগ ও পরিবশেবাদী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে হাতির আবাসস্থল উজাড় হয়েছে, বাধাগ্রস্ত হয়েছে চলাচলের করিডোর। এছাড়া খাদ্য সংকট ও মানুষের নির্মমতায় মারা পড়ছে বন্যহাতি। আবাসস্থল ছেড়ে লোকালয়ে হানা দেওয়ায় বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব। এ কারণে ফসল রক্ষায় বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে হাতি হত্যার ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, সারাদেশের ২৬৮টি মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতির দুই তৃতীয়াংশের বসবাস কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে। কিন্তু কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চল ঘেঁষে রেললাইন ও রোহিঙ্গা বসতি স্থাপন, বিভিন্ন প্রকল্প ও অবৈধ জবরদখলে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্যাভাব, চলাচলের করিডোর চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এসব বন্যহাতির। যে কারণে এসব হাতি লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। লোকজন হাতি ঠেকাতে নিষ্ঠুরভাবে গুলি ও বিদ্যুতের ব্যবহার করছেন। এতে মারা পড়ছে হাতি।

সর্বশেষ ২১ নভেম্বর ভোরে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়ার সাতঘরিয়াপাড়া সংলগ্ন ক্লিব্বা নামক এলাকায় একটি হাতির মরদেহ পাওয়া যায়। হাতিটি বিদ্যুতের ফাঁদে জড়িয়ে মারা পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কক্সবাজারের বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতিকে বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এশিয়ান হাতির সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নানা কারণে গত এক বছরে কক্সবাজার অঞ্চলে ১৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে হাতির দূরত্ব কমাতে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি হাতির করিডোর ও আবাসস্থল বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। হাতির যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য বাঁশি, হর্ন ও পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর কৌশল শেখানো হচ্ছে স্থানীয়দের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!