শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা।
তিনি বলেন, চরমাধবদিয়ার লুৎফর রহমান নান্নু খাঁ নামে এক ব্যক্তির দায়েরকৃত মামলায় সিদ্দিককে কোর্টে চালান করা হবে।
.png)
মামলায় নান্নু খাঁ অভিযোগ করেন, সিদ্দিক জোর করে তার সম্পত্তি দখল করে নেয়। তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ওই টাকা না দেওয়ায় গত বছরের ১৪ অক্টোবর সন্ত্রাসীদের সহায়তায় সিদ্দিক তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সিদ্দিক গ্রেফতার হয়েছে জানতে পেরে নান্নু খাঁ পুলিশে এ অভিযোগ করেন। শুক্রবার এ মামলা রেকর্ড হয়।
জামাল পাশা বলেন, বিভিন্ন অস্ত্রধারীদের সন্ত্রাসী বাহিনী করে সিদ্দিক টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ফরিদপুর পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে এসব বাহিনী ত্রাস চালাতো ও টেন্ডার ছিনতাই করতো। বিভিন্ন হাটবাজার ইজারা, বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ ও ভূমি দখল করেছে। এভাবে সে অঢেল টাকা ও অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে।
তিনি জানান, সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আরো চার-পাঁচটি মামলা রয়েছে কোতোয়ালি থানায়। এরমধ্যে তিনটি চাঁদাবাজি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ২০০৫ সালে সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়। অন্য মামলাগুলো গত বছরের জুন ও জুলাইতে দায়েরকৃত। চাঁদা না দেওয়ায় বল প্রয়োগের অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে।
জামাল পাশা বলেন, সিদ্দিককে গ্রেফতারের পরও অনেকে ফোন করে বিভিন্ন অভিযোগ জানাচ্ছে তার বিরুদ্ধে। এসবের সত্যতা থাকলে আরো মামলা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন সরকার বলেন, গ্রেফতারকৃত সিদ্দিক ফরিদপুরের ছোটন হত্যা মামলায় সম্পৃক্ত ছিলো বলে ঐ মামলায় আগে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে হত্যা মামলাতেও গ্রেফতার দেখানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আব্দুল জলিল, ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুল গফফার অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন।