ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জলদস্যুদের কবল থেকে যেভাবে বগুড়াকে রক্ষা করেন সম্রাট শাহজাহান

মাসুম হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৭:১৯, ১৭ ডিসেম্বর ২০২১
জলদস্যুদের কবল থেকে যেভাবে বগুড়াকে রক্ষা করেন সম্রাট শাহজাহান
গাছ-গাছালিতে ঢাকা মোঘল সম্রাট শাহজাহানের সেনা ছাউনি

ষোড়শ শতাব্দীর ঘটনা। নদীপথে মাঝির বেশে আসত জলদস্যুরা, চালাতো লুটতরাজ। মাঝেমধ্যেই রাতে ঘটত এমন ঘটনা। জলদস্যুদের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে জলদস্যুদের কথা জানতে পারেন মোঘল সম্রাট শাহজাহান। বিষয়টি জানার পর পরই জলদস্যুদের ধরতে সেখানে সেনা ছাউনি স্থাপনের নির্দেশ দেন। পাঠিয়ে দেন সেনাদল। ঐ সেনাদল বগুড়ার করতোয়া নদীর পাশে গড়ে তোলে সেনা ছাউনি। সেখানে ২৫ থেকে ৩০ ফুট মাটি ভরাট করে উঁচু ঢিবি তৈরি করা হয়। মাটি ভরাট করার ফলে বিস্তৃত অঞ্চলে জলদস্যুদের আনাগোনা বা গতিবিধি লক্ষ্য করা যেত।

সম্রাট শাহজাহানের পাঠানো সেনাদলের কারণে সন্ত্রাস আর দস্যুতা থেকে মুক্ত হয় এ জনপদ। পরে সম্রাট শাজাহানের নাম অনুসারেই পুরো এলাকার নাম হয় সাজাপুর। বৃটিশ আমল থেকে সকল রেকর্ডে মৌজাটির সাজাপুর নাম বহাল রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঐ উপজেলার নামকরণও করা হয় শাজাহানপুর।

Advertisement

বগুড়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে শাজাহানপুর উপজেলা। এ উপজেলার সাজাপুর গ্রামে সম্রাট শাহজাহানের সেনা ছাউনিটি অবস্থিত। ঐতিহাসিক স্থান হলেও এটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। বর্তমানে সম্রাট শাহজাহানের এই সেনা ছাউনি মাদকাসক্তদের অভয়াশ্রম। গাছ-গাছালিতে জায়গাটি ঘেরা থাকায় সেখানে নির্ভয়ে মাদক সেবন করে মাদকসেবীরা।

জাতীয় তথ্য বাতায়ন সূত্রে জানা গেছে, ষোড়শ শতাব্দীতে করতোয়া নদী পথে মাঝেমধ্যে মাঝির বেশে জলদস্যুরা আসত। তারা নদী পথে এসে বগুড়ার বিভিন্ন জয়াগায় লুটতরাজ করতো। তাদের কারণে ঐ জনপদের নাম হয় মাঝিড়া। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে সুবে-বাংলা পত্রযোগে আগ্রাতে সম্রাট শাহজাহানকে জলদস্যুদের বিষয়টি অবগত করেন। সম্রাট জলদস্যুদের বিষয়ে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক সেনা ছাউনি স্থাপনের জন্য এ অঞ্চলে একটি সেনাদল পাঠান। ফলে জলদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা পায় এ অঞ্চলের মানুষ।

শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, সম্রাট শাহজাহানের সেনা ছাউনির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। ঐ স্থানটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা দরকার। কিন্তু এটি বর্তমানে পড়ে আছে অযত্ন ও অবহেলায়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফরের আঞ্চলিক পরিচালক (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) মোছা. নাহিদ সুলতানা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সম্রাট শাহজাহানের সেনা ছাউনির বিষয়ে আমাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। তবে আগামী সপ্তাহে ঐ স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!