ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শিশুপার্ক-গরুহাট নিয়ে পুকুর চুরি

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১৩:১৫, ২২ ডিসেম্বর ২০২১
শিশুপার্ক-গরুহাট নিয়ে পুকুর চুরি
শিশুপার্ক ও গরুহাট -ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুরে পৌর শিশুপার্ক ও গরুহাট ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নিয়মানুযায়ী দরপত্রগুলো খোলা হয়। এতে নিয়ম রক্ষার্থে তিনটি করে ছয়টি আবেদন দেখিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের ইজারা দুটি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের।

নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার কথা থাকলেও অন্য ঠিকাদারদের দরপত্র ক্রয় কিংবা দাখিল করতে দেওয়া হয়নি। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে পৌরসভা। এছাড়া দরপত্রে অংশ নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অনেক ঠিকাদার। তাই দ্রুত ইজারা দুটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি তাদের।

সংশ্লিষ্ট ইজারা কমিটি সূত্রে জানা যায়, বিকালে দরপত্র খোলা হলে পৌর গরুহাট আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শাহাদাৎ হোসেন মঞ্জু নামে এক ঠিকাদারকে এবং একই মেয়াদে পৌর শিশুপার্কটি মাকছুদুল আলম নামে আরেক ঠিকাদারকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতাকে প্রতিষ্ঠান দুটি ইজারা দেওয়ার কথা থাকলেও কত টাকার দর-দামে দুজন ঠিকাদারকে ইজারা দেওয়া হয়েছে তা জানাতে পারেননি ইজারা কমিটির সদস্য সচিব।

Advertisement

এদিকে, বিকেল ৩টার দিকে পৌরসভার ইজারা দুটির দরপত্রগুলো খোলা হলেও সন্ধ্যা নাগাদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া দরপত্র আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় নেয়া হয়নি বলে জানান পৌরসভার হিসাবরক্ষক মো. মঞ্জু। এ নিয়েও স্থানীয় ঠিকাদারদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দরপত্র নোটিশ সূত্রে জানা যায়, আগামী এক বছরের জন্য পৌর শিশুপার্কটি ১৫ লাখ ছয় হাজার ৭৫০ ও একই মেয়াদে গরুহাটটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার ২৫০ টাকা ইজারামূল্য ধার্য করা হয়।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সচিব আলাউদ্দিন বলেন, দরপত্রর আহ্বানের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চারটি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার হিসাব শাখা থেকে ১০ জনসহ মোট ১৪ জন শিডিউল ক্রয় করেছেন। তবে সবাই জমা দিয়েছেন কিনা তা জানা নেই। এছাড়া ইজারা দরপত্র খোলার সময় আমি ছিলাম না।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ইজারা কমিটির সদস্য সচিব ও প্রকৌশলী আবুল বাসার জানান, নিয়মানুযায়ী দরপত্রগুলো খোলা হয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা দুজনকে দুটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতা কত টাকা রাজস্বের বিনিময়ে ইজারা নিয়েছেন এমন প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে তিনি জানান, এখনো ইজারা হস্তান্তর করা হয়নি। তবে ইজারা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, সর্বোচ্চ দুজন দরদাতাকে লক্ষ্মীপুর পৌর শিশুপার্ক ও গরুহাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। যারা ইজারা নিতে পারেননি তারা এমন মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!