বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে কিছু গণকবর পরিচর্যা করা হলেও অধিকাংশেরই চেনার কোনো উপায় নেই। এতে করে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের টর্চার সেল সম্পর্কে জানতে পারছে না। গণকবরগুলো সংরক্ষণ করে সেগুলোর নাম ফলকের মাধ্যমে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মকে জানার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে পৌর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে ২৮ শহিদের কবর।
সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মুক্তিযোদ্ধাসহ ২৮ শহিদের স্বীকৃতি আদায় করতে পারেননি তাদের স্বজনরা। শহিদদের গণকবরটি স্বীকৃতির জন্য দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করলেও এখন পযর্ন্ত কোনো কুলকিনারা হয়নি। ফলে অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে আছে এ গণকবরটি।
.png)
যারা শশিদ হয়েছিলেন তারা হলেন কানু মিয়া, তারু মিয়া, আজিজ মিয়া, লালু মোল্লা, মুকসুদ আলী, বদর উদ্দিন, আবুল খায়ের, ওসমান আলী, ফজু মিয়া, মুকছুদ আলী, ওয়ালী মিয়া, হাফিজ উদ্দিন ফজলু মিয়া, দৌলত মিয়া, ফিরুজ মিয়া, আব্দুল হক, আব্দুল মাজন, আলী আহম্মদসহ ২৮ জন।
এ গণকবরটিতে নেই কোনো দেয়াল । পুরো কবরস্থান আগাছায় ভরা। নেই কোনো স্মৃতিস্তম্ভও।
শহিদ মুকসুদ আলীর ছেলে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মন্তাজ মিয়া বলেন, আমার বাবা, চাচা, ভাই ভাগ্নিসহ আত্মীয় স্বজনরা এ গণকবরে শায়িত আছেন। যুদ্ধের সময় আমি ছোট ছিলাম। মায়ের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরায় চলে যাই। দুপুরের দিকে তিনি নিজেও যাওয়ার জন্য ঘরে তালা দিয়ে ছোট ভাইকে ডাক দিতে গেলে পাক বাহিনী এসে আব্বাকে ধরে ফেলে। পরে আমার চাচা ওসমান আলী, বড় বোনজামাই বদর উদ্দিন, ভাগ্নে মাজনসহ গ্রামের ১৮ জনকে তারা ধরে নিয়ে আসে। বিকেলের দিকে আমাদের গ্রামের পাশে তারাগণ ব্রিজের সামনে সবাইকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
পরে গ্রামের লোকজন নারায়ণপুর বাইপাস সড়কের পাশে একটি তেঁতুল গাছের নিচে আব্বাসহ সবাইকে কবর দেয়। আগরতলার রমেশ দাসের বাড়িতে আমাদের আশ্রয় হয়েছিল। রাতে আব্বার মৃত্যু সংবাদটি আমরা পাই।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও শহিদ পরিবার হিসেবে আমাদের কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। গণকবরটি চিহ্নিত না করায় পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। গণকবরটি সংরক্ষণ করে বেষ্টনী নির্মাণ করে দেয়ার পাশাপাশি আমাদেরক যেন শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি দেয়া হয়। আমি এ নিয়ে বহুবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে গিয়েছি আবেদন করেছি কোনো ফল পাইনি।
পৌর যুবলীগের সভাপতি ও নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মনির খান বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক স্বাধীনতার এত বছর পরও গণকবরটি চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করা হয়নি। কোনো ধরনের বেষ্টনী না থাকার কারণে গণকবরটি বেহালদশায় পড়ে আছে। আমি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে দাবি জানাচ্ছি গণকবরটি যেন বেষ্টনি দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।
আখাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সৈয়দ জামশেদ শাহ বলেন, তারাগণ ব্রিজের কাছে নারায়ণপুর গ্রামের ১৮ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনকে এখানে এনে পাক সেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে। গণকবর ও শহিদ পরিবারের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কাগজপত্র মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার বলেন, গণকবরটি চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনেক আগেই পাঠানো হয়েছে।