বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি শেখ মনিরুল গিয়াস।
আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত আশিকুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার জয়া, বাবু ও হোটেলের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন ছোটন। বাকি দুজন অজ্ঞাত।
.png)
ধর্ষণের শিকার নারী জানান, বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে আসেন তিনি। তারা শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে ওঠেন। সেখান থেকে বিকেলে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে যান। লাবনী পয়েন্টে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে দুজনের কথা কাটাকাটি হয়।
এরই জেরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি অটোরিকশায় তাকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তিনজন।
এরপর তাকে জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে নেয়া হয়। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর আরেক দফা তাকে ধর্ষণ করেন ওই তিন যুবক। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে কক্ষ বাইর থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
ওই নারী আরো জানান, জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তা কক্ষের দরজা খোলেন তিনি। এরপর ৯৯৯-এ ফোন দেন। তাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। এরপর পাশের একজনের সহযোগিতায় র্যাবকে কল দেন। তারা এসে তাকে উদ্ধার করে। পর্যটন গলফ মাঠের এলাকা থেকে তার স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, সামান্য ধাক্কা লাগার কারণে তারা আমার এত বড় ক্ষতি করল। অপরিচিত বলে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেলেও সে জায়গা ও দুর্বৃত্তদের চিনতে পারিনি।
তিনি আরো বলেন, বারবার হাতে-পায়ে ধরলেও তারা আমার স্ত্রীকে ফেরত দেয়নি। বেড়াতে এসেছিলাম বেতন পাওয়ার খুশিতে। এখন স্ত্রীর অবস্থা ভালো নয়; তাকে নিয়ে চিন্তায় আছি।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি স্পর্শকাতর তাই র্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে।