তবে ধর্ষণের ঘটনাটি সংঘবদ্ধ কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেননি তিনি।
পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। যে সকল আলামত ও প্রমাণপত্র আমাদের হাতে এসেছে এখানে ধর্ষণের বিষয়টি পরিষ্কার। ভিকটিমের আদালতের জবানবন্দি এবং প্রমাণপত্র ধর্ষণের ঘটনাটি প্রমাণ করতে যথেষ্ট।
তিনি আরো বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে একজনই তাকে (ওই নারীকে) হোটেলটিতে নিয়ে গিয়েছিল। ঐ একজনই তাকে ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং আমাদের (পুলিশের) জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে। ঘটনার আগে যে ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে গিয়েছিল ওখানে আগে থেকে আরো দুইজন উপস্থিত ছিল। এই তিনজনের বাইরে চাঁদা দাবি এবং মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সঙ্গে অনেকেই জড়িত।
.png)
এদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম আশিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়ে।
গত বুধবার (২২ ডিসেম্বর) স্বামী-সন্তানকে জিম্মি ও হত্যার ভয় দেখিয়ে এক নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পেয়ে রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজারের কলাতলীর ‘জিয়া গেস্ট ইন’ নামে একটি হোটেল থেকে ঐ নারীকে উদ্ধার করে র্যাব-১৫। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে হোটেলের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে শনাক্তও করা হয়েছে।
ঐ নারীর বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, গত বুধবার সকালে ঢাকা থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে আসেন ওই নারী। এরপর কক্সবাজার শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে উঠেন। সেখান থেকে বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ঘুরতে যান। লাবণী পয়েন্টে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর স্বামীর ধাক্কা লাগে। পরে কথা কাটাকাটি হয়।
এরই জেরে সন্ধ্যায় স্টেডিয়াম সংলগ্ন পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে কয়েকজন যুবক তার স্বামী ও ৮ মাসের সন্তানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। অপর একটি অটোরিকশায় তিন যুবক গৃহবধূকে তুলে নেয়। পরে তারা পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
সেখান থেকে তাকে জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানেও তাকে আরেক দফা ধর্ষণ করে ওই যুবকরা। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে হোটেল কক্ষটি বাইরে থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যায় তারা।
ওই নারীর দাবি, তিনি জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তায় কক্ষের দরজা খুলে ৯৯৯-এ ফোন দেন। পুলিশ তাকে থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেয়। তারপর অপর এক ব্যক্তির সহযোগিতায় কল দেন র্যাবকে। পরে র্যাব এসে তাকে উদ্ধার করে। পর্যটন গলফ মাঠের এলাকা থেকে তার স্বামী ও সন্তানকেও উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার আশিকুল ইসলাম আশিকসহ এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- আশিকের দুই সহযোগী ইস্রাফিল খুদা জয়, মেহেদী হাসান বাবু এবং হোটেলের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন ছোটন।