ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘মৃত্যুর কথা বলে মাফ চাওয়া’ প্রধান শিক্ষকের লাশ ঝুলছিল গ্রিলে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:০৪, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১
‘মৃত্যুর কথা বলে মাফ চাওয়া’ প্রধান শিক্ষকের লাশ ঝুলছিল গ্রিলে
প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম (বামে), স্বজনদের আহাজারি (ডানে)

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রেজাউল ইসলাম নামে এক প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুত্র নিজ বাড়ির লোহার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহত রেজাউল ইসলাম যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাগুলাট ইউনিয়নের শালঘর মধুয়া গ্রামের আনছার উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম ঋণগ্রস্ত ছিলেন। কিছুদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের কাছে মৃত্যুর কথা বলে মাফ চেয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ধার-দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

Advertisement

রেজাউল ইসলাম ১৯৯০ সাল থেকে কেশবপুরের নিদেনতলায় ঘরজামাই থাকতেন। সেখানে থেকেই চাকরি করতেন। তার স্ত্রী শেফালী আক্তার চর আগ্রাকুণ্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাদের দুই ছেলে রয়েছে।

আরো জানা গেছে, তিনি নতুন বাড়ি ও বাজারে একটি মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা ধার-দেনা করেন। দেনার টাকার জন্য স্বজনদের কাছে সহযোগিতা কামনা করতেন। সোমবার বিকেলে জন্মস্থান শালঘরমধুয়াতে গিয়ে ভাইদের বলেন, দুই লাখ টাকা না দিলে তাকে আর পাওয়া যাবে না। পরে তার ভাইয়েরা তাকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। তিনি টাকা নিয়ে রাতে বাড়ি ফিরে অন্যদিনের মতই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর ভোররাতে নিজ বাড়ির পাশের গ্রিলে রশির সঙ্গে ঝুলতে দেখেন তার স্ত্রী। ঐ সময় স্ত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে নিচে নামিয়ে ডাক্তারকে খবর দেয়। স্থানীয় ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুনসুর আলী বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক আড্ডায় চিরবিদায়ের কথা বলেছিল। কিন্তু সত্যিই চলে যাবেন তা ভাবতে পারিনি। আজ শোনা যাচ্ছে তার অনেক টাকা দেনা। হয়তো দেনার চাপে আত্মহত্যা করেছেন।

বরইচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার শাজাহান আলী বলেন, কয়েকদিন আগে রেজাউল ভাই মজা করে বলেছিল, একটা কলা খাওয়াও ভোটের পরে কিন্তু মারা যাব। একথা শুনে আমি ও কয়েকজন শিক্ষক তাকে কলা খাইয়েছিলাম। কিন্তু সত্যিই চলে যাবেন বুঝতে পারিনি।

নিহতের স্ত্রী শেফালী আক্তার বলেন, কিছুই বুঝতে পারিনি। ধারদেনার কথা কিছু বলেনি। ভোরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গ্রিলে ঝুলতে দেখে চিৎকার দিয়ে উঠেছিলাম। আমি আর কিছু জানি না।

কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নিজবাড়ির গ্রিলে ঝুলছিল এক প্রধান শিক্ষককের লাশ। ঝুলন্ত লাশ নিচে নামিয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!