ক্রিকেট নিয়ে দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা, একজন গ্রেফতার
গাজীপুরের শ্রীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সে মামলার তিন নম্বর আসামি।
গ্রেফতারকৃত বিপ্লব ঐ উপজেলার কাওরাইদ গ্রামের নারায়ণ পাগলার ছেলে। শনিবার সন্ধ্যায় কাওরাইদ বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার বলেন, সন্ধ্যায় আসামি বিপ্লবকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। অভিযুক্ত খাইরুল মীর ঘটনার পরপরই গা ঢাকা দিয়েছে। বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
.png)
নিহত ছাত্রলীগ নেতা নয়নের বড় ভাই মানিক জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অনুভব নামে একজনের সঙ্গে নয়নের অনুসারীদের ঝগড়া হয়। পরে তার অনুসারীরা ঝগড়ার বিষয়টি তাকে জানায়। নয়ন উভয় পক্ষকে ডেকে অনুভবকে একটা থাপ্পড় দিয়ে মীমাংসা করে দেন। থাপ্পড় দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নয়নকে ডেকে নিয়ে আটকে রাখেন অনুভবের বাবা খাইরুল মীর। কিছু সময় পর স্থানীয় একটি পুকুর থেকে নয়নের লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, নয়ন মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা করতেন। চার মাস আগে নয়নের সঙ্গে খাইরুলের অনুসারী মাদক ব্যবসায়ী বাচ্চুর মারামারি হয়। এছাড়া বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খাইরুল মীরের সঙ্গে নয়নের বিরোধ ছিল। নানা বিষয়ে নয়নের সঙ্গে বিরোধ চলছিল খাইরুল অনুসারীদের। এমনকি নয়নকে হত্যা করতে বিভিন্ন সময় পরিকল্পনাও করেছিল তারা। কিন্তু ছাত্রলীগে নয়নের শক্তিশালী অবস্থান হওয়ায় খাইরুল অনুসারীরা সুযোগ পায়নি। গত বৃহস্পতিবার নয়নকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাদের পূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন বলেন, নয়ন ছাত্রলীগের ত্যাগী, পরিশ্রমী ও নিবেদিত প্রাণ নেতা ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠিন শাস্তি চাই।
শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, নিহত ছাত্রলীগ নেতা নয়নের ভাই বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। এরই মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।