বুধবার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বল্লভপুর ১ নম্বর কালীর বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযুক্ত শাহ মো. আলী শাওন একজন সৌদি প্রবাসী। তিনি বিভিন্ন স্থানে নিজেকে সৌদিআরবের একজন ভালো চাকরিজীবি হিসেবে পরিচয় দিতেন। সৌদিআররে পাঠিয়ে ভালো চাকরি দিতে পারবেন বলেও জানাতেন। তার টার্গেটই ছিল বিভিন্ন এলাকার সহজ সরল ব্যক্তি।
.png)
তার প্রতারণার মূল কৌশল ছিল তিনি প্রথমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভ্রমণ ভিসায় সৌদি আরব নিয়ে যেতেন তারপর অন্য ব্যক্তির পাসপোর্ট দিয়ে ভুয়া আকামা (ওয়ার্ক পারমিট) করে দিতেন। এ আকামা করে দেওয়ার জন্য ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিপুল টাকা আদায় করে নিতেন। ভুয়া আকামার কারণে অনেককে সৌদি আরবে পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়ে কারাবাস করতে হতো।
এরই মধ্যে তিনি একজনকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ঐ ব্যক্তিকে একটি জাল ভিসার মাধ্যমে সৌদি আরব পাঠান। জাল ভিসা নিয়ে ঐ ব্যক্তি সৌদি আরব প্রবেশ করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। সৌদি আদালত তাকে ২৭ মাস জেল প্রদান করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ২৭ মাস জেলে থেকে তার পরিবারের সহায়তায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবের জেল থেকে গত ৫ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফিরে শাহ মো. আলী শাওন এর পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা বিষয়টিকে কোনোরূপ গুরুত্ব না দিয়ে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিভিন্ন মাধ্যমে শাহ মো. আলী শাওন এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার পরিবারের মতো একইভাবে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে বলেন।
পরে ভুক্তভোগী গত ২২ জানুয়ারি র্যাব-১১,সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা একটি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অবশেষে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বল্লভপুর ১ নম্বর কালীর বাজার থেকে প্রতারক শাহ মো. আলী শাওনকে আটক করা হয়।
প্রতারক শাহ মো. আলী শাওন কোতোয়ালি থানার বল্লভপুর গ্রামের মো. আলী আজগর এর ছেলে। আটককৃতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মানব পাচার আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।