অভিযুক্ত কসাই মঞ্জুরুলকে করইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটক করে রেখেছে জনতা।
মঞ্জুরুল স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের জানান, বিনোদটঙ্গী এলাকার পিয়ন মেম্বারের ছেলে মোকাররম, হোসেন মেম্বারের ছেলে কামরুল ও আব্দুল গফুরের ছেলে ওয়াকিল রোববার ভোরে উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক সামিউল ইসলামের ৯ মাসের গাভিন গরু চুরি করেন। পরে তার সহযোগী মাংস বিক্রেতা আজিজ, শাহজাহান ও সাত্তারের কাছে ৫০ হাজার টাকায় সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর ভোরেই তারা গরুটি জবাই করে পেটে থাকা বাছুর অন্যত্র পুঁতে রেখে মাংস বিক্রি শুরু করেন।
.png)
গরুর মালিক সামিউলের স্বজনরা মাংস বিক্রির সময় জবাই করা গরুর চমড়া দেখে চ্যালেঞ্জ করলে কসাই মঞ্জুরুল সব স্বীকার করেন।
আরো পড়ুন: বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের
মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয় একজন ফোন করে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ঘটনা তাকে জানায়। পৌরসভার বাইরে মাংস বিক্রির জন্য জবাই করার আগে কোনো গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্ব তাদের নেই। তবে পৌরসভার মধ্যে শিক্ষিত কসাইখানা থাকলে সেখানে জবাই করার জন্য আনা গরু প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে থাকেন।
কিন্তু মাদারগঞ্জে কোনো স্বীকৃত কসাইখানা নেই। এ অবস্থায় মাদারগঞ্জ উপজেলায় মাংস বিক্রির জন্য জবাই করার আগে কোনো প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না বলেও জানান তিনি।
পশুপালন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, জবাই করা পশুর মাংস পরীক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের।
স্থানীয় মাংস ক্রেতারা জানান, মাংস বিক্রির জন্য এ উপজেলায় প্রতিদিন শতাধিক গবাদিপশু জবাই করা হয়। কিন্তু কোনো পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় প্রতিদিনই অনেক অসুস্থ, গর্ভবতী ও চোরাই পশু অবাধে জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন কসাইরা।
মাদারগঞ্জ থানার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, গরু জবাইয়ের স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।