ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কোনো কাজে আসছে না লাখ টাকার প্রকল্প

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
কোনো কাজে আসছে না লাখ টাকার প্রকল্প
কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ড

মাদারীপুরের ৫টি উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও কৃষি বিষয়ে চাষিদের আগাম তথ্য দিতে স্থাপন করা হয় আবহাওয়া তথ্য বোর্ড ও স্বয়ংক্রিয় রেইনগজ। তবে স্থাপনের ৪ বছর পরও তা কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। এত বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় ভেস্তে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগ। নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগের বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে খাদ্যসহ বিভিন্ন ফসল রক্ষায় চাষিদের আগাম তথ্য জানাতে স্থাপন করা হয়েছিল রেইনগজ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক ও সরকারি সহযোগিতায় কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতিকরণ প্রকল্পের আওতায় জেলার ৫টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বসানো হয় আবহাওয়া তথ্য বোর্ড। এ জন্য ইউনিয়নের অনুকূলে কৃষি অফিসে দেওয়া হয় আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি।

তথ্য বোর্ডের মাধ্যমে চাষিদের প্রতিদিনের খরা, ঝড়-বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, দাবদাহ, শীত, কুয়াশা, বন্যাসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আগাম তথ্য-সেবা দেওয়ার কথা। আবহাওয়া কবে কেমন থাকবে এবং ফসলের জন্য তা কতটা উপকারী- এসব বিষয় কৃষকরা এ তথ্য বোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন। আগাম তথ্যের ভিত্তিতে তারা ফসল রক্ষায় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

Advertisement

দীর্ঘ ৪ বছরেও তথ্য বোর্ড চালু না হওয়ায় হতাশ চাষিরা। তবে কি পরিমান অর্থ ব্যয় হয়েছে এই প্রকল্পে তার সঠিক তথ্য নেই মাদারীপুর কৃষি বিভাগে।

সরেজমিনে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে দেখা গেছে, আবহাওয়া তথ্য বোর্ড হালনাগাদ করা হয় না হয় না দীর্ঘদিন। বোর্ডের একাংশ খুলে গেছে। মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মাদ্রা বাজারে দেখা গেছে আবহাওয়া তথ্য বোর্ড পড়ে আছে একটি সারের দোকানের পেছনে। একই চিত্র অধিকাংশ ইউনিয়নে। ফলে এ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে না কৃষকরা। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।

কৃষকরা অভিযোগ করেন, সরকার এমন একটি প্রকল্প হাতে নিলেও অধিকাংশ কৃষক এ ব্যাপারে জানে না। তাদের অবগত করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

ডাসার উপজেলার কৃষক তুহিন শরীফ বলেন, খরা, ঝড়-বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, দাবদাহ, শীত, কুয়াশার তথ্য যদি আগে পেতাম তাহলে আমাদের ক্ষতি হতো কম। কিছুদিন আগে বৃষ্টিতে আমাদের আলু ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আগে জানলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিতাম।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেল হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে এসে যন্ত্রপাতি লাগিয়ে গেছে কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। তাই রেইনগজ পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। এ প্রকল্পে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তাও জানি না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!