ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এক হত্যার তদন্তে মিলল আরো ২ হত্যা, নেপথ্যে বিকৃত যৌনাচার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৫২, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
এক হত্যার তদন্তে মিলল আরো ২ হত্যা, নেপথ্যে বিকৃত যৌনাচার
অভিযুক্ত ইয়াদ আলী

ঝিনাইদহে সদর উপজেলায় ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় বিবিজান নামের এক নারীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে আরও দুই হত্যার রহস্য।

বিকৃত যৌনাচারী থেকে কিলার হয়ে ওঠা অভিযুক্ত ইয়াদ আলী এক সপ্তাহের ব্যবধানে একইভাবে আঘাত করে নারীসহ হত্যা করেছেন আরও ৩ জনকে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমরা তদন্ত করে ও তার হত্যার বর্ণনা দেখে এটা নিশ্চিত হয়েছি যে বিকৃত যৌনাচার ও ধর্ষণে বাধা দেওয়ার কারণে ইয়াদ আলী এই ৩টি হত্যা করেছেন।

Advertisement

জানা যায়, ধর্ষণচেষ্টায় বাধা দেওয়ায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামে বিবিজান বেগম নামে এক নারীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নড়াইল জেলা শহরের ডুমুরতলা গ্রামের ইয়াদ আলী। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে র‌্যাবে সোপর্দ করে।

আরও জানা যায়, এ ঘটনায় ওইদিন নিহতের ছেলে আবু জাফর বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করলে ইয়াদ আলীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। পর আসামি ইয়াদ আলীকে নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। আঘাতের ধরন একই বুঝে সন্দেহ হলে ওই দুই হত্যার সঙ্গে জড়িত কিনা তা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ওই দুটি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন ইয়াদ।

আরো পড়ুন: গাছের সঙ্গে ধাক্কায় ঝরল বাইক আরোহীর প্রাণ

ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, বিবিজান বেগম নামে ওই নারীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে; অন্য দুটি হত্যাকাণ্ডও একইভাবে সংঘটিত। এতে আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা ইয়াদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই দুটি হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি তেতুলতলা এমকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে ইলিয়াস পাটোয়ারী ও ৯ জানুয়ারি লাউদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিঁড়ির নিচ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদেরও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অভিযুক্ত ইয়াদ আলী পুলিশকে জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে এম কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ইলিয়াস পাটোয়ারিকে টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন তিনি।

এর আগে লাউদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকায় অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান বলে জানান ইয়াদ। পরে তার পচা-গলা লাশের গন্ধ আশপাশের মানুষ বুঝতে পেরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

ওসি সোহেল রানা আরও বলেন, তিনটি ঘটনার মধ্যে দুটিতে হত্যা মামলা ও একটিতে অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। এখন তিনটিই হত্যা মামলা হবে। আমরা আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছি ইয়াদ আলী আরও কোনো হত্যার সঙ্গে জড়িত কিনা তা বের করার চেষ্টা করছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!