মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবন হেলে পড়ার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
বাড়ির মালিকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি ও ইট তোলায় ভবনটি হেলে পড়েছে।
.png)
জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে ঐ ভবনের সামনের ড্রেনের কাজ করছিল রোজা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণ শ্রমিকরা ভবনের নিচ থেকে মাটি ও ইট তুলে ফেলে। শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর ভবনের নিচের মাটি ও ভবনের মূল দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এ সংবাদ পেয়ে বাড়ির সকলে ভবন ত্যাগ করতে থাকেন। স্থানীয়রা ভবনকে ধসের হাত থেকে রক্ষা করতে বাঁশ দিয়ে বাঁধ দেয়।
সংরক্ষিত ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলার মাজেদা খাতুন জানান, সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, ওয়াসা ও পুলিশকে খবর দেন, যেন আশপাশের কারো কোন ক্ষতি না হয়। এ এলাকার অনেকেই বাড়ি নির্মাণের কাঠামোগত কোনো নিয়ম মানেননি। অনেক বাড়ি আছে যাদের ড্রেনের সলিংয়ের ওপর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
মরহুম মহিউদ্দিনের জামাতা তৌফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, বাড়িটি পাকিস্তান আমলের। ২৫ বছর আগে তার শ্বশুর বাড়িটি ক্রয় করেন। তিনতলা ভবনের ওপরে টিন শেডের কয়েকটি ঘর রয়েছে। মালিকসহ ভবনে ১২টি পরিবার বসবাস করে। গত ১৫ দিন ধরে শ্রমিকরা এখানে মাটি খোঁড়ার কাজ করছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে শ্রমিকদের মূল বেজের নিচ থেকে ইট তুলতে নিষেধ করা হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। তারা বেজের ইট ও মাটি তুলে ফেলে। এর কিছুক্ষণ পরে গাঁথুনি ফেটে যায় এবং বাড়িটি হেলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্য ও ভাড়াটিয়ারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ত্যাগ করতে থাকে। মালপত্র ও মূল্যবান কাগজ তারা বের করতে পারেনি।
রোজা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. গোলাম আযম বলেন, কুয়েট, ডিডিসি ও কেসিসি উদ্যেগে সারা শহর ব্যাপী ড্রেন সংস্কারের কাজ চলছে। ড্রেনের জন্য কোথাও ৮ ফুট আবার কোথাও ৮ ফুট করে খোঁড়া হচ্ছে। বাড়িটি ড্রেনের ইটের সলিংয়ের ওপরে নির্মাণ করা হয়। ইট খুঁড়তে গিয়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে বাড়িটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবনের নিচ থেকে মাটি যেন পড়ে না যায় সেজন্য বালু ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সকালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক বাবুল চক্রবর্তী জানান, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে খবর পেয়ে বাড়ি ভেতর থেকে সকল সদস্যদের বের করে আনা হয়। এখন কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো নিময় মানা হয়নি। আর এ বাড়িটি ড্রেনের ইটের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।