ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শেষ হলো নরসিংদীর ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩২, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২
শেষ হলো নরসিংদীর ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা
ভক্তদের ভিড়ে জমে উঠে বাউল মেলা: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদীতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) থেকে শুরু হয়েছে ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা। জেলা শহরের কাউরিয়াপাড়া এলাকার মেঘনা নদীর তীরে বাউল আখড়াধামে সকাল থেকে শুরু হয় এ মেলা। দীর্ঘদিন ধরে মেলাটি ৭দিন হয়ে থাকলেও এবার করোনা পরিস্থিতিতে তিনদিনেই শেষ হলো। 

মেলার মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে শেষদিন পর্যন্ত সকাল থেকে দিনরাত সমান তালে চলে ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন ও আলোচনা। আর এই মেলাকে ঘিরে সমবেত হন দেশ-বিদেশের শতাধিক বাউল। মেলা উপলক্ষে মেঘনার পাড়ে খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।

মেলার আয়োজক, ভক্ত ও স্থানীয়রা জানান, বাউল ঠাকুরের আখড়াবাড়িতে প্রায় ৭০০ বছর ধরে এই বাউল মেলা হয়ে আসছে। ৭০০ বছর আগে নরসিংদীতে এক বাউল ঠাকুর ছিলেন। তিনি নিজেকে শুধু বাউল বলেই পরিচয় দিতেন। এ জন্য বাউল ঠাকুরের প্রকৃত নাম বলতে পারেননি কেউ। সেই বাউল ঠাকুরের স্মরণে আখড়াধামে হয়ে আসছে এই বাউল মেলা। 

Advertisement

কে সর্বপ্রথম এখানে এ বাউল মেলার আয়োজন করেছেন সেই বিষয়টিও কেউ বলতে পারছেন না। কেউ কেউ মনে করেন ব্রিটিশ শাসনামল থেকে এখন পর্যন্ত মেলার আয়োজন করছে রাম বাউল ও তার পরবর্তী প্রজন্মরা। সম্প্রতি নরসিংদীর বাউল আখড়াবাড়ির সেবায়েত (তত্ত্বাবধায়ক) প্রাণেশ কুমার ঝন্টু বাউল মারা গেছেন। এ বছর মেলার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মৃদুল বাউল মিন্টু। 

প্রতিবছরের মতো এবারো মেলা উপলক্ষে আখড়াধামে হাজির হয়েছেন ভারতসহ দেশ-বিদেশের শতাধিক বাউলভক্তরা। পাশাপাশি যারা বাউলকে নিয়ে সাধনা করেন তাদের কাছে সাধনাই মূল ধর্ম। আত্মশুদ্ধি আর আত্মমুক্তির জন্য এই মেলায় আসেন তারা।

এদিকে বাউল মেলা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা বাঙালির চিরচেনা মুখরোচক খাবার ও বাহারি পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে জিলাপি, সন্দেশ, বারোমিঠাই, দই, মুড়ালি, গুড়ের তৈরি মুড়ি ও চিড়ার মোয়া, তিলের মোয়া, তিলের সন্দেশ, খাস্তা, কদমা, নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু, খাজা, গজা, নিমকি, মনাক্কা, গাজরের হালুয়া, পিঠাসহ রকমারি খাবার। 

এছাড়া খেলনা, ঘরের তৈজসপত্র, আসবাব, বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক, মাটি ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্যের স্টল নিয়ে বসেছেন তারা।

বাউল আখড়াবাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মৃদুল বাউল মিন্টু জানান, প্রতিবছরের মতো এ বছরও ঐতিহ্যবাহী এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সকাল ৯টার দিকে যজ্ঞানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই প্রতিবছর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) মেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সাতদিনের পরিবর্তে তিনদিনে মেলা শেষ হলো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!