চৌগাছায় ইউপি মেম্বার হত্যায় ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
যশোরের চৌগাছার পাতিবিলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার ঠান্ডু বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের প্রতিদ্বন্দ্বী রুহুল আমীন ওরফে রুলু, তার ছেলে টিটো, কবির হোসেন, রওশন আলী এবং তোতা নামে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের ছেলে টিংকু পারভেজ গ্রামের ২১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
নিহতের ছেলে টিংকু পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামিদের সঙ্গে আমার বাবাসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীদের মতবিরোধ চলছিল। তারা আমার বাবা ও বাকি ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় পাতিবিলা বাজারে টিটোর চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার বাবার ওপর হামলা করে আসামিরা। ঐ সময় আসামি টিটো ধারালো দা দিয়ে আমার বাবার পেটের ডান পাশে কোপ দিলে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। একই সময়ে আরেক আসামি ছুরি দিয়ে আমার বাবার পেটের বামপাশে আঘাত করে এবং আরেকজন বেলচা দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
.png)
তিনি আরো বলেন, আমার বাবাকে মারধরের ঘটনা টের পেয়ে অন্য ভুক্তভোগীরা এগিয়ে গেলে আসামি রওশন হাতুড়ি দিয়ে আমার চাচা আব্দুল হামিদের মাথায় আঘাত করে। আরেক আসামি রুহুল আমিন ধারালো দা দিয়ে মমিন বিশ্বাসের মাথায় কোপ দেয় এবং বাকি আসামিরা মকবুল, অসীম ও সিদ্দিকসহ ভুতক্তভোগীদের মারধর করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমার বাবাসহ আহতদের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা গুরুতর অবস্থায় আমার বাবা ঠান্ডু বিশ্বাস, মোমিনুর ও চাচা আব্দুল হামিদকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে রাত ৯টা ১০ মিনিটে আমার বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, ঐ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।