আদমদীঘিতে ৪১৬ বস্তা সার উদ্ধার, ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বোরো মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সার মজুদ রাখায় মেসার্স জুঁই ট্রেডার্স অ্যান্ড তানহা হার্ডওয়্যার নামে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এ সময় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৪১৬ বস্তা সার উদ্ধারসহ দোকান মালিক সুমন ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার রাত ৯টার দিকে আদমদীঘির সান্দিড়া গ্রামে ওই দোকানের গুদাম থেকে সার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সুমন ইসলাম আদমদীঘি উপজেলার সান্দিড়া গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মিঠু চন্দ্র অধিকারী বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেন।
.png)
উপজেলা কৃষি অফিস জানান, আদমদীঘি উপজেলার সান্দিড়া গ্রামে অবস্থিত মেসার্স জুঁই ট্রেডার্স অ্যান্ড তানহা হার্ডওয়্যারের মানিক সুমন ইসলাম সরকারি লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে সার ও কীটনাশক বিক্রি করে আসছিল। এরই আড়ালে তার মাটির ঘরের গুদামে অবৈধভাবে কালো বাজারির মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় বোরো মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার রামসায়নিক সার মজুদ করে রাখে।
গত বুধবার রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী রায়ের নেতৃত্বে উপজেলা কৃষি অফিসার মিঠু চন্দ্র অধিকারী ওই দোকানের গুদামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ রাখা বিসিআইসির ২৯২ বস্তা সার, কাফকোর ৭ বস্তা, কাতার ৩ বস্তা ইউরিয়া সার, টিএসপি ৬ বস্তা সার ও ডিএপি ১০৮ বস্তা সারসহ মোট ৪১৬ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সারের দাম ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬০০ টাকা।
এর আগে গত মঙ্গলবার ১ মার্চ সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত উক্ত প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সার মজুত রাখার অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক সুমন ইসলামের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক। তারপরও গুদামে থাকা সার গোপনে পাচারের চেষ্টা করলে গত বুধবার এই গুদামে আবারো অভিযান চালিয়ে ৪১৬ বস্তা সার উদ্ধার ও সুমন ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার মিঠু চন্দ্র অধিকারী সার উদ্ধার ও মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।