১৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কোমারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও বিচার চেয়ে ২ মার্চ ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযুক্তের নাম আনন্দ কুমার শীল। তিনি উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য।
.png)
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবনযাপন করেন ৩৫ বছরের ওই নারী। ইউপি সদস্য আনন্দ কুমার শীলের চাচাতো ভাই রবীন্দ্রনাথ শীলের বাড়িতেও ঝিয়ের কাজ করেন তিনি। চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই বিধবাকে কুপ্রস্তাব দিতেন আনন্দ কুমার শীল। কিন্তু নিজের সম্মানের কথা ভেবে আনন্দকে এড়িয়ে চলতেন বিধবা।
১৫ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রনাথ শীলের বাড়িতে কাজ শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন ওই বিধবা। এ সময় পথ আটকে তাকে সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলেন আনন্দ কুমার শীল। পরে এ বিষয়ে দিনের বেলায় কথা বলতে চান তিনি।
ভুক্তভোগী বিধবা জানান, ঘর দেওয়ার কথা বলে কুপ্রস্তাবে রাজি হতে বলেন মেম্বার। কিন্তু রাজি না হওয়ায় তাকে জাপটে ধরে টেনেহিঁচড়ে পাশের বাগানে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চিৎকার শুরু করলে তাকে ছেড়ে পালিয়ে যান মেম্বার। পরে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান তিনি।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, মেম্বার হওয়ার পর থেকেই আমাকে রাস্তাঘাটে বিরক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতেন আনন্দ কুমার শীল। কথা বলার জন্য আমার ফোন নম্বর চাইতেন। একপর্যায়ে আমাকে সরকারি বরাদ্দের ঘর দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে তার সঙ্গে গোপন সম্পর্ক করতে বলেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। কিছুদিন আগে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমাকে রাস্তায় থামিয়ে কথা আছে বলে জাপটে ধরে বাগানে নেয়ার চেষ্টা করেন। পরে তার কাছ থেকে কোনোক্রমে ছুটে আসি।
বিধবা আরো বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয়ে মেম্বার আনন্দ কুমার শীল বলেন, মানুষের ভালোবাসায় এবার নিয়ে তিনবার আমি নির্বাচিত হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ুন রশিদ বুলবুল বলেন, ওই বিধবা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কষ্টে জীবনযাপন করেন। ঘর দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে তাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন আনন্দ কুমার শীল। ওই নারীকে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি।
বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল এমরান হোসেন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী। পরে আনন্দ কুমার শীলকে সতর্ক করে দিয়েছি।