সন্তান হারিয়ে বাবার বুকফাটা কান্না ‘আমার মেয়ে কই পামু’
বন্ধু কি থেকে কি হলো আমার মেয়ে কই পামু। সমবেদনা জানানোর জন্য ফোন করা হলে এভাবেই প্রতিনিধিকে কান্না জড়িত ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন জাহাঙ্গীর আলম শিপলু।
শিপলু ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীন মাস্টারের পুত্র।
ঈশ্বরগঞ্জে ৭ মার্চ সোমবার যে দুটি শিশুকে গলা কেটে হত্যা করেছে তাদের মামা মাহাবুব তার মধ্যে তৃপ্তি আক্তার (৪) শিপলুর মেয়ে।
তিনি জানান, প্রায় একবছর পর আমার মেয়ে দুটিকে নিয়ে ১২-১৪ দিন হলো বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেছে স্ত্রী হালিমা। গত শুক্রবার বাড়িতে চলে আসার কথা ছিল। তখন তার স্ত্রী জানায় এতো দিন পরে যখন এসেছি আর ২-৩ দিন থেকে যাই। এমন কথায় আপত্তি করেনি শিপলু। আজ দুপুরের দিকে যখন এমন সংবাদ তার কাছে পৌঁছায় বারবার মূর্চা যাচ্ছিলেন তিনি।
সোমবার দুপুরের দিকে সহোদর দুই খালাতো বোনকে মানসিক ভারসম্যহীন মামা নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা করে। নিহত দুই শিশুর মধ্যে সায়মা নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বড়ইতাতি গ্রামের জাকির হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির কন্যা। অপরদিকে তৃপ্তি আক্তার নান্দাইল উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও হালিমা খাতুন দম্পতির কন্যা।
এমন মর্মান্তিক ঘটনা শোনে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক জনতার ঢল নামে। তাদের সামলাতে প্রশাসনের বেগ পেতে হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নান্দাইল থানার ওসি আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। খুনি মাহাবুবকে আটক করা হয়েছে। তিনি কাজীর বলসা গ্রামের আ. রহমানের পুত্র। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।