ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছাদ থেকে ফেলে সুমাইয়াকে মেরে ফেলেছে জ্বীন!

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২৮, ১৮ মার্চ ২০২২
ছাদ থেকে ফেলে সুমাইয়াকে মেরে ফেলেছে জ্বীন!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক মাসের ব্যবধানে দুইবার ছাদ থেকে লাফ দেয়ার পর অবশেষে মারাই গেছেন মোসাম্মাৎ সুমাইয়া নামে এক গৃহবধূ। 

শুক্রবার ভোরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সুমাইয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা মানতে নারাজ তার পরিবার ও স্থানীয়রা।  তাদের ভাষ্য, সুমাইয়াকে জ্বীনে ধরেছিল। জ্বীনের কারণেই তাকে এভাবে মরতে হলো। 

নিহত সুমাইয়ার বাবা হাফিজুর রহমান ভাঙ্গা পৌর এলাকার কাপুড়িয়া সদরদি মহল্লার দাড়িয়ারমাঠ কওমি মাদরাসার একজন শিক্ষক। পাশাপাশি হজ্ব এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে সৌদিতে লোক পাঠান। এলাকায় ধর্মপ্রাণ পরহেজগার হিসেবে পরিচিত। বাবার মাদরাসা থেকেই পড়াশুনা শেষে আড়াই বছর আগে কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের হাশমত মুন্সির বিদেশ ফেরত মুন্সি চান মিয়ার সঙ্গে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে। মেয়ে জামাইয়ের বাড়ির কাছে সুমাইয়ার বাবা হাফিজুর রহমান একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধায় স্বামীর বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন সুমাইয়া। এরপর তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফরিদপুরের বিএসএমএমসি হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মাসখানেক আগেও সে এভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে। তাতে তার হাত পা ভেঙে যায়। এরপর হাসপাতাল থেকে ব্যান্ডেজ করে বাসায় ফিরলেও সে পুরোপুরি সুস্থ্ হয়ে উঠেনি। তার চিকিৎসা চলছিলো। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধায় স্বামীর বাড়ির ছাদ থেকে আবার লাফ দেয় সে।

সুমাইয়ার বাবা হাফিজুর রহমান বলেন, তার মেয়ের ওপরে জ্বীনের নজর ছিলো। ঐ খারাপ জিনিসটাই তাকে বারবার মেরে ফেলতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলো। গত মাসে পারেনি। এবার সে হাত পা ভাঙা অবস্থাতেই লাফ দিয়ে মারা গেলো।

সুমাইয়ার স্বামী মুন্সি চাঁন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় বাইরে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে ভোরের দিকে ফরিদপুরের মেডিকেল হাসপাতালে মারা যায় সে। 

তিনি বলেন, তার স্ত্রী সুমাইয়ার কোনো শারিরীক সমস্যা ছিলো না। তবে মাঝেমধ্যে সে পাগলামি করতো। সবাই বলতো ওর ওপর জ্বীনের প্রভাব আছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে হুজুর দেখাতাম। মাঝে একটু ভালো ছিলো। কিন্তু তারপর আবার সেই তাই হলো।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্সি জাকির হোসেন বলেন, মাসখানেক আগে সুমাইয়া এভাবে লাফ দেয়ার পর শরীরের হাড় ভেঙে যায়। তারপর হাসপাতালে অপারেশন করে রড দিয়ে হাড় জোড়া দেয়া ছিলো। গতকাল লাফ দেয়ার পর শরীরের ওই রড বের হয়ে রক্তক্ষরণ হয়। 

তিনি বলেন, মাদরাসা পড়া অবস্থাতেই সুমাইয়ার ওপর জ্বীনের ভাব ছিলো। তার নিজেরও মাদরাসা পড়ুয়া একটি মেয়ের এমন জ্বীনের ভাব আছে বলে জাকির মুন্সি জানান। 

তিনি বলেন, সুমাইয়ার পরিবার খুবই পর্দানশিল। তার স্বামীও নামাজকালাম পড়েন। তবে বিদেশ থেকে ফিরে সুমাইয়ার স্বামী দেশেই ব্যবসা করলেও সঠিক করে কেউ বলতে পারেনি তার ব্যবসাটা কি। 

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মোহসিন ফকির জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধায় সুমাইয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং শরীরে ভাঙাচোরা ছিলো। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়। রাতে সেখানে মারা যায় সে। 

তিনি বলেন, মেয়েটির মানসিক সমস্যা ছিলো কিন্তু পরিবার হতে সঠিকভাবে চিকিৎসা পায়নি। বরং এটি জ্বীনে ধরা বলে তারা তাদের উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলো।

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা জানান, এ ব্যাপারে তারা কোন অভিযোগ পাননি। এদিকে শুক্রবার দুপুরে ভাঙে ঈদগাহ মাঠে বাদ জুমা জানাযা শেষে সুমাইয়াকে দাফন করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: ফরিদপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!