দীর্ঘ এক বছর সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন- বেঁচে থাকার আর সম্ভাবনা নেই ফাহমিদার। কিন্তু এ অবস্থায়ও প্রিয়তমার হাতটি ছেড়ে দেননি স্বপ্নে বিভোর মাহমুদুল হাসান। ছায়া হয়ে তার পাশে থেকে একপর্যায়ে নিয়ে নেন কঠিন সিদ্ধান্ত। মৃত্যু পথযাত্রী ফাহমিদাকে হাসানের বিয়ের প্রস্তাবে হতবাক হন সবাই। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত ৯ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের বেডেই এক টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
হাসপাতালেই করা হয় বিয়ের সব আয়োজন। ফাহমিদাকে পরানো হয় লাল বেনারশি শাড়ি, গলায় সোনার হার। বর হাসান পরেন পাঞ্জাবি-পায়জামা। দুজন মিলে কেক কাটেন, হয় মালা বদল। খেজুর মিষ্টি খাওয়ানো হয়। ক্ষণিকের জন্য মরণঘাতী ক্যানসারকে জয় করে ফাহমিদা হয়ে ওঠেন অন্য এক জগতের বাসিন্দা। সমস্ত স্বর্গীয় সুখ ঘিরে রাখে তাকে। আবার যেন তার ইচ্ছে হচ্ছিল হারিয়ে যাওয়া সেই সোনালী দিনগুলোতে ফিরে যেতে। ইচ্ছে হচ্ছিলো হাসানের বুকে মাথা রেখে হাজার বছর বাঁচতে।
.png)
কিন্তু সেই বেঁচে থাকা আর হলো না ফাহমিদার। বিয়ের ১২ দিনের মাথায় সবাইকে ছেড়ে ফাহমিদা পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। সোমবার সকালে নগরীর বাকলিয়া এলাকায় নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
দক্ষিণ বাকলিয়ার বাসিন্দা ফাহমিদা কামাল ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনের মেয়ে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝ। ফাহমিদা আইইউবি থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন সাকীর নাতনি।
অন্যদিকে, মাহমুদুল হাসানের বাড়ি চকরিয়ায়। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন সাকী বলেন, দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার পর সোমবার সকালে দক্ষিণ বাকলিয়ার বাসায় ফাহমিদা মৃত্যুবরণ করেন। দেশের পর ভারতেও তার চিকিৎসা করানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দেওয়ায় পরবর্তীতে দেশে নিয়ে আসা হয়। কিছুদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারে রেখে চিকিৎসা করানো হয়।