ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মুন্সিগঞ্জে বাড়ি বাড়ি চলছে কান্নার রোল

শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবি
নাদিম মাহমুদ, মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৪:৫১, ২২ মার্চ ২০২২
মুন্সিগঞ্জে বাড়ি বাড়ি চলছে কান্নার রোল
কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবিতে পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সিগঞ্জে নিহতদের বাড়ি বাড়ি চলছে কান্নার রোল। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় স্বজনদের চোখ ভিজে যায় জলে। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। 

গত রোববার দুপুর আড়াই টার দিকে এমএল আশরাফ উদ্দিন লঞ্চ ডুবির ঘটনায় গতকাল সোমবার দিনভর মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের বাড়িতে এমনই শোকের মাতমের চিত্র মিলেছে।

লঞ্চ ডুবিতে নিহত হয়েছেন মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার রমজানবেগ এলাকার দ্বীন ইসলামের স্ত্রী আরিফা বেগম ও দুই বছরের শিশু সন্তান সাফায়েত।

Advertisement

 প্রিয়জন হারানোর বেদনায় স্বজনদের চোখ ভিজে যায় জলে।

এছাড়া শহরের উত্তর ইসলামপুরের ড্রেজার ব্যবসায়ী জয়নাল ভূঁইয়া, গজারিয়া উপজেলার ইসমানিচর গ্রামের স্মৃতি রানী রাজবংশী। স্মৃতি রানী মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছিল। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ছোট বোন ৩ বছরের আরোহী রানী রাজবংশী। লাশ নিজ বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের কান্নার দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবার চোখে জল এসে যায়।

আরো পড়ুন >>> গলায় ফাঁস লাগিয়ে এনজিও’র কিস্তির সমাধান খুঁজলেন হাসান

এদিকে বড় বোন স্মৃতি রানীর লাশ উদ্ধার করা হলেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৩ বছরের আরোহী রানীর কোনো সন্ধান মিলেনি। আদরের ধন আরোহী রানীর মরদেহ পেতে রোববার থেকেই শীতলক্ষ্যার তীর চষে বেড়াচ্ছেন বাবা জয়রাম রাজবংশীসহ তার স্বজনরা। আর দুই কন্যাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তাদের বাবা মা। দুই কন্যার স্মৃতিচারণ করে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন বাবা জয়রাম রাজবংশী ও তাদের মা। এ ঘটনায় গোটা এলাকা নিস্তব্ধ। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

আরোহী রানীর খালু রিপন বর্মণ বলেন, প্রায় সময়ই নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একরামপুর এলাকায় আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসত তারা। কয়দিন বেড়ানোর পর আবার নিজেরাই চলে যেত। আমাদের বাড়ি থেকে রোববার দুপুরে যাওয়ার পর বিকেলে খবর নিয়ে দেখি তারা বাড়িতে পৌঁছায়নি। পরে সংবাদ পাই শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর ছবি দেখালে স্মুতির খোঁজ পাই। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। আরোহী এখনও নিখোঁজ রয়েছে। জানি না সে কোথায় আছে। 

আরো পড়ুন >>> শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি: কার্গো জাহাজের ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

তিনি আরো বলেন, আমরা মরদেহ হলেও ফেরত চাই। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি যেন মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। যেন তাদের মা বাবাকে সান্তনা দিতে পারি।

এদিকে হাতিমের স্ত্রী মোমেলা বেগমের মতোই লঞ্চ ডুবির ঘটনায় শীতলক্ষ্যাবক্ষে ট্রলারযোগে প্রিয়জনের খোঁজ করে বেড়াচ্ছিলেন অসংখ্য স্বজন। তাছাড়া শীতলক্ষ্যার নদীর কয়লাঘাট ও আল আমিন নগর তীর জুড়ে শুধুই স্বজনদের ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে।

অন্য দিকে মুন্সিগঞ্জে পৌরসভার যোগনীঘাট এলাকায় নিখোঁজ রয়েছেন হাতেম (৫৫)। প্রবাসী হাতেম ওপেন হার্ট সার্জারির রোগী ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে লঞ্চের উঠলেও পরে আর ফোনে রিং বাজেনি।

আরো পড়ুন >>> স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর ছাটলেন নিজের গোঁফ-দাড়ি, হলো না শেষ রক্ষা

নিখোঁজ হাতিমের স্ত্রী মোমেলা বেগম বলেন, আমার স্বামী হার্টের রোগী। নারায়ণগঞ্জে ডাক্তার দেখাতে তার সঙ্গে আমারও যাওয়ার কথা ছিল। ডাক্তার দেখিয়ে লঞ্চে উঠার পর আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর থেকে ফোন বন্ধ পাচ্ছি। লঞ্চ পাওয়া গেল কিন্তু আমার স্বামীকে পাওয়া গেল না। অন্তত লাশটা খুঁজে বের করে দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ।

নিখোঁজ হাতেমের মেয়ে কাকলি বলেন, ‘বাবার ফোনে আমরা ফোন দেই বাবার ফোন আর বাজে না। এখনো নিখোঁজ আছেন। রাত ১২টায় লঞ্চ উপরে উঠাইছে ভেতর বাবারে পাইলাম না। বাবার লাশটা  খুঁইজা  দেন।’  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: লঞ্চডুবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!