ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি-পাসপোর্ট, হুমকিতে নিরাপত্তা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫৯, ৩ এপ্রিল ২০২২
রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি-পাসপোর্ট, হুমকিতে নিরাপত্তা
ছবি: সংগৃহীত

বেশকিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে বলে জানা যায়, যা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করেন সচেতন মহল।

সাড়ে চার বছর আগে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ায় প্রবেশ করে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয় এবং ৩৪টি অস্থায়ী ক্যাম্পে তাদের বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়। 

শুরুতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ। এখন বংশবৃদ্ধির পর তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত আছে।

Advertisement

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা এদেশের জন্য অনেক সমস্যা সৃষ্টি করেছে এবং করেই চলেছে। রোহিঙ্গারা তাদের জন্য নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে বনাঞ্চলের গাছ কাটছে, পাহাড় কাটছে এবং সেখানে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করছে। তারা কক্সবাজার জেলার দক্ষিণাঞ্চলে ভূ-প্রকৃতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করছে। 

একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। তারা এনআইডি কার্ড ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করছে অবৈধ উপায়ে। এ কাজে তারা দুর্নীতিপরায়ণ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তা পাচ্ছেন। অবৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বেশকিছু রোহিঙ্গা এরই মধ্যেই অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিমত, বাংলাদেশের এনআইডি ও পাসপোর্ট কেবল এদেশের নাগরিকরাই পেতে পারেন। এনআইডি কার্ডধারী নাগরিকরা দেশের সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকারী। এনআইডি কার্ড থাকলে নাগরিকরা পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন এবং পাসপোর্ট নিয়ে অন্য দেশে যেতে পারেন।

অপর দিকে বিদেশি রোহিঙ্গারা কেবল বাংলাদেশের এনআইডি কার্ড নয়, পাসপোর্টও সংগ্রহ করেছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক। 

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি খুব সহজসরল নয়। পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করে এই কার্ড পাওয়া যায়। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর তথ্য সংগ্রহ, পরিচিতি যাচাই, উপজেলা সার্ভারে প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে এনআইডি কার্ড দেওয়া হয়। এজন্য বেশ সময়ও লাগে।  

চট্টগ্রামে নকল এনআইডি ও পাসপোর্ট করে দেওয়ার কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে সুসংগঠিত একটি চক্র কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। সম্প্রতি এ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। গত বছর এ চক্রের অন্তত ১৫ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পাসপোর্ট অফিস থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ, জাল বা ভুয়া এনআইডি, ভুয়া পাসপোর্ট প্রভৃতি। 

এ চক্র মাত্র পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে ভুয়া এনআইডি সরবরাহ করছে। কয়েক হাজার টাকার বিনিময়েই নাকি রোহিঙ্গারা এই চক্রের কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টও সংগ্রহ করেছে। ইসি ও পাসপোর্ট বিভাগের কিছুসংখ্যক অসাধু কর্মচারী এ ধরনের অপকর্মে জড়িত।

স্থানীয়রা জানান, ভুয়া এনআইডি বা পাসপোর্ট তৈরির কাজে জড়িত একটি চক্র ধরা পড়লেও এমন আরো অনেক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের সব চক্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তা না হলে বাংলাদেশকে বড় ধরনের হুমকি ও বিপদের মধ্যে পড়তে হতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহর ভাই শাহ আলিকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উদ্ধার করে। এরপরই অবৈধভাবে এনআইডি প্রদানের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, শাহ আলি এনআইডি কার্ডটি সংগ্রহ করেছেন ২০১৮ সালে। তখন তিনি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার অধীন একটি স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেন। তদন্তে দেখা যায়, এ নামে ঐ এলাকায় কেউ থাকেন না। কার্ডটি পুরোপুরি ভুয়া, কিন্তু প্রদান করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এনআইডি কার্ড ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা এবং এদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: রোহিঙ্গা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!