এমন ন্যাক্কারজনক অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও প্রাণ নাশের বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা আমলে না নিলেও জেলা পর্যায়ে কর্মরত বিক্ষুব্ধ কয়েকজন সাংবাদিক জেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এম মুখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এতে অবৈধপন্থায় অর্জিত অঢেল সম্পত্তি ও অর্থ থাকলেও কিছুটা নড়ে চড়ে বসেন বালু ব্যবসায়ী আলাল। এদিকে প্রাণনাশের হুমকি অকথ্য ভাষায় গালাগালির বিষয়ে একটি অডিও রেকর্ড থাকায় দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন রিফাত আহমেদ রাসেল।
বালু ব্যবসায়ী আলাল সংবাদকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রিফাতকে ফোন করে খোঁজ খবর নেন। ঘটনার সত্যতা থাকায় রিফাতসহ তার পরিবারের সার্বিক সহযোগিতায় পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত বালু ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আলালের অর্থের প্রলোভন ও দাম্ভিকতার কাছে নিশ্চুপ হয়ে পড়েন সকলেই।
.png)
এদিকে হুমকির ঘটনা আড়াল করতে নেত্রকোনার কয়েকজন সাংবাদিককে নিজ এলাকায় ডেকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন আলাল। দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া উপজেলার ৫২ জন রাজাকারদের তালিকায় ১২ নম্বরে নাম রয়েছে আলালের শ্বশুর রমজান শেখের।
দীর্ঘদিন ছন্নছাড়া জীবন বাদ দিয়ে নিরাপত্তা হীনতার বিষয়টিকে মাথায় নিয়ে জেলা শহরের রিফাতের জন্য আন্দোলন করা কর্মরত বিক্ষুব্ধ কয়েকজন সাংবাদিকের সহায়তায় পরিবারের কাছে ফিরেছেন রিফাত।
এদিকে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি সুরাহা করতে নানা রকম চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী সাংবাদিক ও জেলায় কর্মরত বেশ কজন সুবিধাভোগী সংবাদকর্মী। যদিও সত্যের কাছে মাথা নত করেনি তরুণ সাংবাদিক রিফাত।
এদিকে রিফাত ও তার পরিবারের নিরাপত্তায় সার্বিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, রিফাত ও তার পরিবারের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
উল্লেখ্য, সোমেশ্বরী নদী ও আশপাশের মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রেহাই পাওয়ার বিষয়ে ফেইসবুকে স্টেটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ৯ মার্চ রাতে রিফাতকে নিজ অফিসে ডেকে নিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি সহ অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বালু ব্যবাসায়ী আলাল। এরপর দিন থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ছন্নছাড়া জীবন যাপন করছিলেন তিনি।