প্রেমিক হত্যায় প্রেমিকার আমৃত্যু কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন ৫
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রেমের জেরে রায়হান নামে এক দিনমজুরকে হত্যা মামলায় একজনকে আমৃত্যু ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শিখা খাতুন জেলার দৌলতপুর উপজেলার ভুরকাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- একই গ্রামের জলিল সরদারের ছেলে ৬০ বছর বয়সী আব্দুল মান্নান, মান্নানের ছোট ভাই ৪৬ বছরের সাদু সরদার, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাজুল সরদার, শওকত সরদারের ছেলে বজলু সরদার ওরফে বজু ও রাজন আলীর স্ত্রী ৩২ বছরের আজমিরা খাতুন।
.png)
মামলার বরাত দিয়ে আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী জানান, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শিখার সঙ্গে ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ খন্দকার পাড়া এলাকার মীর শহীদুলের ছেলে রায়হানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সম্পর্ক শিখার পরিবার মেনে না নেয়ায় পরিকল্পিতভাবে ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর রাতে রায়হানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান শিখা। ওই রাতেই রায়হানকে এলোপাতাড়ি মারধরের পর হত্যা করে লাশ গুম করেন আসামিরা।
এরপর থেকে রায়হানের পরিবার তার মোবাইল বন্ধ পায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরদিন দুপুরে জুনিয়াদহ পালপাড়া মাঠের মধ্যে থেকে রায়হানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা মীর শহীদুল।
তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ১৩ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করে আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই আসামিদের পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।