এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শনিবার বিকেলের মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাত আসামিদের যোগসাজশে শ্বাসরোধে হত্যার পর সজনীকে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
নিহত সজনী মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া গ্রামের গোরস্থানপাড়ার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। সজনীর ৫ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৮ বছর বয়সী এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। গ্রেফতার লালন আলী ভেড়ামারা উপজেলার ১৬ দাগ এলাকার সলিম উদ্দিনের ছেলে।
.png)
গ্রেফতার লালন আলী প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তর জন্য কুষ্টিয়া হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে লালন আলীর সঙ্গে সজনীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। গত তিনমাস ধরে লালন আলী স্ত্রী সজনীকে মোবাইলে অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলার কারণ দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন করতেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত এক সপ্তাহ আগে সজনী পালিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান।
আরো পড়ুন: ধস্তাধস্তি করেও প্রাণে বাঁচল না শুভ, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা
আরও জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি লালন শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে জোর করে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার দিকে মোবাইলে সজনীর বাবা সিরাজুল ইসলামকে কল দিয়ে লালন জানান, সজনী নিখোঁজ তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলার ১৬ দাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি কলাবাগানে সজনীর অগ্নিদগ্ধ বিকৃত লাশ পাওয়া যায়।
মামলার বাদী ও নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়েকে লালন তিনমাস আগে একটি মোবাইল কিনে দেয়। সেই থেকে তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই বাকবিতণ্ডা হতো। অন্যের সঙ্গে কথা বলার কারণ দেখিয়ে জামাই আমার মেয়েকে মারধর করতো। আমার মেয়ে ভালো ছিল। সে নির্যাতন সহ্য করে ভালোভাবেই সংসার করছিল। কিন্তু লালন আমার মেয়েকে বাঁচতে দিল না। শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে।
হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে হত্যায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
ভেড়ামারা থানার ওসি মজিবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর হত্যাকারীরা আগুন দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। এতে মরদেহ পুড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে- পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামি লালন আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।