ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঝালকাঠিতে কৌশলে আসছে মাদক

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১২:৪৭, ১৯ এপ্রিল ২০২২
ঝালকাঠিতে কৌশলে আসছে মাদক
র‌্যাবের হাতে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী-ফাইল ফটো

মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের পরও ঝালকাঠিতে মাদক সরবরাহ থামছে না। বরং মাদক পাচারে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় পাচারকারীদের নিত্য নতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল দেখে চমকে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। 

সবজি, পরিবহনের মধ্যে বিশেষ চেম্বার তৈরি, বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বহনকারী নৌযান, শুকনো মরিচ, জুতা, ইলিশ মাছ, ও নারীদের অন্তর্বাসসহ নানা কায়দায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

Advertisement

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শুক্রবার (১৫এপ্রিল) রাতে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব-৮। 
র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার দপদপিয়া জিরোপয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালায় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি দল। এ সময় তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার  মূল্যের ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা কিনে বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল। আটককৃতদের রাতেই নলছিটি থানায় সোপর্দ করা হয়।

গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের ইউনুস মার্কেট এলাকা থেকে ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ খায়রুল থলপহরী নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে ঝালকাঠির ডিবি পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। খায়রুল ইসলাম ঢাকার ব্যবসায়ী মনির হোসেন থলপহরীর ভাই।  

ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. মাইনুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খায়রুল থলপহরীকে ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়েছে। তাকে ঝালকাঠি সদর থানায় হস্তান্তর করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।  শনিবার বিকেলেই তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে সোপর্দ করে। 

গত ১০ এপ্রিল (রবিবার) শহরের পালবাড়ি ছাইকারী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) সদস্যরা আল আমিন হাওলাদারকে ৪০টি ইয়াবাসহ আটক করে। আল আমিন নলছিটি উপজেলার কান্ড পাশা এলাকার মৃত মনির হাওলাদারের ছেলে।

গত ৭এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) শহরের বিকনা এলাকা থেকে ৩০টি ইয়াবাসহ মো. আরিয়ান সরদারকে আটক করে ডিবি। তিনি কৃষ্ণকাঠি এলাকার  মো. আ. হালিম সরদারের পুত্র। ৩ এপ্রিল (রোববার) নলছিটি উপজেলার রায়াপুর এলাকা থেকে মো. সানজিদ সরদারকে ২০টি ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি। তিনি ওই এলাকার মো. হুমায়ুন কবীরের ছেলে। ৩১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি এলাকা থেকে  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনায় ৫০টি ইয়াবাসহ  মো. সুজনকে আটক করে ডিবি। তিনি ঐ এলাকার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে।

সূত্র জানায়, প্রায় দিনই স্থল ও জল পথে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লে অবৈধ মাদক জব্দ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইয়াবাই সবচেয়ে বেশি। আর ইয়াবা সরবরাহে বাহকদের কৌশলে বিস্মিত সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিতে মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে এসব মাদক সরবরাহের চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব  কৌশলের মধ্যে রয়েছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, জিআই পাইপ, পানির কলসিতে, মহিলাদের অন্তর্বাস, ইলিশ মাছ ও শুকনো মরিচ।

ঝালকাঠি শহর, শহরতলী এবং প্রত্যন্ত এলাকায় এসব কৌশলে মাদক সরবরাহ করছে ব্যবসায়ীরা। অনেক মাদক ব্যবসায়ী নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর ফাঁকি দিতে রমজানের কয়েকমাস আগে থেকে নিজ স্থানের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও ঈদ উপলক্ষে তারা এলাকায় ফিরেছে। নিজেকে অন্য ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে তারা আড়ালে মাদকের ব্যবসা করছে। শহরে বিভিন্ন সংস্থার কড়া নজরদারি থাকায় প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে। 

ঝালকাঠি সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে বহমান সুগন্ধা নদী। উত্তরে জেলা শহর ও দক্ষিণে পোনাবালিয়া ইউনিয়ন এবং নলছিটির কুলকাঠি ইউনিয়ন। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ার সুবাদে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পোনাবলিয়া ইউনিয়নের ইটেরপোল, গুচ্ছগ্রাম, পোনাবালিয়া বাজার, নাইওর বাড়ি (সিকদারবাড়ি) এলাকায় রিপন খলিফা, হাসিব মল্লিক, ফয়সাল সিকদার, আকাশ গাজী, লিটন মাতবার মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ঝালকাঠি জেলা পুলিশের  গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অফিসার ইন চার্জ মাইনুদ্দিন জানান,  জেলা পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় ঝালকাঠি জেলাকে মাদকমুক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। প্রায়ই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ী আটক করা হয়। মাদক ব্যবসায় জড়িতদের আটক করার পরও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশলে মাদক পরিবহন করলেও আমরা এ সব  কৌশলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের সবার সহযোগিতায় মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!