ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ফুটপাতে বাবার দোকানে মিষ্টি বিক্রি করছেন বিসিএস ক্যাডার দুই ছেলে

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২২
ফুটপাতে বাবার দোকানে মিষ্টি বিক্রি করছেন বিসিএস ক্যাডার দুই ছেলে
ফুটপাতে মিষ্টি বিক্রি করছেন দুই ভাই

ফুটপাতে বাবার মিষ্টির দোকান। তবে মিষ্টি বিক্রেতা হলেও দুই ছেলেই বিসিএস ক্যাডার। পেয়েছেন ভালো কর্মস্থলও। তবু মিষ্টি বিক্রি করছেন বাবা। এ নিয়ে ছেলেরাও গর্বিত। সুযোগ পেলেই বাবার দোকানে সময় দেন তারা। এবার ঈদেও ছুটি পেয়ে ফুটপাতে বাবার সেই দোকানে মিষ্টি বিক্রি করছেন বিসিএস ক্যাডার এ দুই ভাই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এমনই দৃশ্য দেখা গেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বাজারের চাল হাটায়। রমজান উপলক্ষে দোকানে ভিড় বাড়ায় বাবাকে সহযোগিতা করছেন দুই ছেলে।

দুই ভাইয়ের একজন অমিত কুমার পাল ও আরেকজন মৃনাল কুমার পাল মিঠন। দুজনই আড়ানী উচ্চ বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজে থেকে মাধ্যমিক শেষে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন অমিত কুমার পাল। পরে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় পাস করে সান্তাহার সরকারি কলেজে যোগদান করেন। এ কলেজ থেকে তিনি ১৬৪তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার চার মাস মেয়াদে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে দেশসেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

Advertisement

এছাড়া এমবিবিএস শেষে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন মৃনাল কুমার পাল মিঠন। তারা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বাজারের স্বর্গীয় হিতেন কুমার পালের নাতি এবং বাবু উত্তম কুমার পাল ও বাসনা রানী পালের ছেলে। তাদের বাবা উত্তম কুমার পাল আড়ানী বাজারের ফুটপাতের ক্ষুদ্র মিষ্টি বিক্রেতা। মা গৃহিণী।

বোন মিতা রানী পাল সম্প্রতি সরকারি একটি অফিসের অফিসার পদে যোগদান করেছেন। তারা দুই ভাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে বাবার ফুটপাতের মিষ্টির দোকানে বসে দোকানদারি করেন।

এ বিষয়ে অমিত কুমার পাল বলেন, আমরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বাবা ফুটপাতে মিষ্টি বিক্রি করে দুই ভাই ও এক বোনকে মানুষ করেছেন। আমি ৩৫তম বিসিএস শিক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি কলেজে যোগদান করেছি। সেখান থেকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় দেশসেরা হয়েছি। আমরা কোনো কিছুকে খাটো করে দেখি না। সুযোগ পেলেই দুই ভাই বাবার ফুটপাতের দোকানে বসে সহযোগিতা করি।

মৃনাল কুমার পাল মিঠন বলেন, ঈদের ছুটি কাটাতে কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামে এসেছি। কিন্তু কী আর করা বাবার ব্যবসা ছোট হলেও রমজান উপলক্ষে দোকানে ভিড় বেড়েছে। বাবা একা মানুষ কোনদিকে যাবেন। তাই বাবার অন্য ব্যস্ততায় দোকান সামলাতে দুই ভাই সহযোগিতা করছি। সুযোগ পেলেই সহযোগিতা করি।

বাবু উত্তম কুমার পাল বলেন, আমার ছেলে মেয়েদের কখনো ভালো প্রাইভেট, ভালো পোশাক, খাদ্য, ঘুমানোর ভালো জায়গা দিতে পারিনি। আমার ও আমার স্ত্রী বাসনা রানীর সার্বিক প্রচেষ্টায় ছেলেরা ভালো জায়গায় এসেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!