এভাবেই বিভিন্নজনের মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠিয়ে ‘খুব কাছের কেউ’ জানিয়ে চাওয়া হচ্ছে জাকাত বা ফিতরার টাকা। সামনে আসছে ঈদ, বাবার হাতে নেই টাকা; ফলে উপায় না পেয়ে পরিচিতজনের কাছে চাইছেন সহায়তা। তবে আত্মসম্মান রক্ষার্থে গোপন রাখতে চাইছেন নিজের পরিচয়।
এ অবস্থায় মোবাইলের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি ভাবছেন- হয়তো খুব কাছের কেউ বিপদে পড়ে চাইছেন এমন সহায়তা। ‘কাছের কেউ না হলে নাম জানার কথা না’ এমন ভাবনায় কেউ কেউ হয়তো পাঠিয়ে দিচ্ছেন সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা।
.png)
তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বিভিন্নজনকে টার্গেট করে প্রতারণার নতুন এক কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র- ডেইলি বাংলাদেশ-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমনই তথ্য।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একই বার্তা পেয়েছেন মোবাইল ব্যবহারকারীর অনেকেই। শুধুমাত্র পরিবর্তন করা হচ্ছে টার্গেট করা ব্যক্তি তথা মোবাইল ব্যবহারকারীর নাম। তবে এক্ষেত্রে একাধিক নম্বর ব্যবহার করছে চক্রটি। যেসবের মধ্যে রয়েছে- ০১৬১৬৭২৭৬৪১, ০১৬১৬-৭২৭৬২৯, ০১৬১৫-৭৫১১৮৫ ও ০১৬১৬-৭২৭৬৩৫।
মোবাইলে এমন বার্তা পাওয়াদের একজন নবাব আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমার যে নম্বরে ম্যাসেজ এসেছে, সেটি ফ্যামিলি বা আত্মীয়দের কাছে নেই। হাতেগোনা কয়েকজনের কাছে আছে শুধু। যাদের কাছে আছে তারা আমাকে নবাব বলে ডাকে। কিন্তু ম্যাসেজ এসেছে রহিম নামে। ফ্যামিলি, আত্মীয়স্বজন কিংবা পাড়ার বন্ধুরা ছাড়া এভাবে কেউ ডাকে না। তাদের কাছে নম্বরটাও নেই। আমি খুবই কনফিউজড ছিলাম।
একই বার্তা পাওয়া মোহাম্মদ রাব্বি বলেন, শনিবার মধ্যরাতে ম্যাসেজটি পাই। প্রথম দেখাতে মনে হয়েছে খুব কাছের কেউ বিপদে পড়ে হয়তো সহায়তা চাইছে। তাছাড়া এমন ভাষায় ম্যাসেজটি লিখা, যে কারো মানবতা জেগে ওঠারই কথা। তবে তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠাইনি। মানুষটি কে হতে পারে তা দীর্ঘ সময় ধরে ভেবেছি। পরদিন জানতে পারি একই ম্যাসেজ পরিচিতজনদের অনেকেই পেয়েছেন। এটি প্রতারণার নতুন কৌশল।
পুলিশ বলছে, সাইবার অপরাধী ও প্রতারক চক্রগুলোকে প্রতিনিয়ত শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মানুষও সচেতন হলে অনেকাংশে এ ধরনের প্রতারণা কমিয়ে আনা সম্ভব।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ঈদকে টার্গেট করে সক্রিয় রয়েছে প্রতারক চক্র। তাদের ধরতে কাজ করছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। এক্ষেত্রে মানুষেরও কিছুটা সচেতন হওয়া উচিত।