অপরদিকে সংঘর্ষে নিহত রহিম মালিথার ছেলে রফিকুল বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ আনিস মেম্বরকে প্রধান আসামি করে ২৭ জনের বিরুদ্ধে একই থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান রতন।
মঙ্গলবার (০৩ মে) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে বিকেলের দিকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
.png)
নিহতরা হলেন- আস্তানগর গ্রামের দাউদ মন্ডলের ছেলে লাল্টু, মৃত হাসেম আলীর ছেলে কাশেম, মৃত আবুল আলীর ছেলে রহিম এবং আজিজের ছেলে মতিয়ার।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আস্তানগর বাজারে কেরামত আলীর সমর্থক আব্দুর রহিম মালিথার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেহেদী হাসানের সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে রহিমের ওপর হামলা চালায়। এসময় লাঠির আঘাতে রহিম মাটিতে পড়ে যান।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মেহেদী সমর্থকরা স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এরই মধ্যে রহিমকে মারধরের সংবাদ পেয়ে কেরামত আলীর সমর্থকরা পাল্টা মেহেদী সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে মেহিদীর সমর্থকরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এই সুযোগে কেরামত আলীর সমর্থকরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আঘাত করে। এ সময় মেহেদীর সমর্থক মতিয়ার, লাল্টু ও আবুল কাশেম গুরুতর জখম হয়।
পরে সংবাদ পেয়ে ইবি থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন ১০ জন।
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কেরামত উল্লাহর সঙ্গে ফজলু মন্ডলের বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে সোমবার বিকেলে চারজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতয়েন রাখা হয়েছে।