ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সড়কে হাট-বাজার, বাড়ছে দুর্ঘটনা

জুলফিকার আলী কানন, মেহেরপুর 
প্রকাশিত: ২০:৩৯, ২০ মে ২০২২
সড়কে হাট-বাজার, বাড়ছে দুর্ঘটনা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মেহেরপুর জেলায় প্রধান সড়ক ঘেঁষে প্রায় ২৫ টিরও অধিক হাট বসে। মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের মেহেরপুর জেলা শহরের ওপর বসে সড়ক ঘিরে হাট-বাজার। 

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে মেহেরপুরের অংশে রয়েছে প্রায় ২৫ কিলোমিটার।

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কের দুপাশে গোপালপুর, মদনাডাঙ্গা, গাঁড়াডোব রাইসমিলপাড়া, বাঁশবাড়িয়া, গাংনী, চেংগাড়া, জোড়পুকুরিয়া, তেরাইল, ছাতিয়ান, বাওট, আকুবপুর বসে বড় বড় হাট বাজার।

Advertisement

এই আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে দ্রুতগতির যান চলাচলে নিয়মিত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়তই প্রাণহানি আর পঙ্গুত্ব বরণ করছেন মানুষ।
মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে বড় বাজার রয়েছে মেহেরপুর বাজার। যেখানে সপ্তাহের শুক্রবার ও মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সড়কে থাকে মানুষের জটলা। দূরপাল্লার পরিবহন প্রায় এখানে থেমে চলতে হয়। এই এলাকায় এরইমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ট্রাক ড্রাইভার ঝন্টু ফকির, ইন্তাজুল ইসলাম জানান, মেহেরপুর থেকে বিভিন্ন সবজি বোঝায় করে প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক ট্রাক নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া দিয়ে ঢাকার পথে যেতে হয়। কিন্তু মেহেরপুর বাজারে এসে ঝামেলা তৈরি হয়। মানুষ পথ ছাড়তে চায় না।

এ ছাড়া গাংনী, পুড়াপাড়া, বাঁশবাড়িয়া, বাওট বাজার তো পুরো সড়কের ওপর বসে। এতো প্রতিবন্ধকতা নিয়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।
মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের আমঝুপি, বারাদী, দরবেশপুর প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে হাট বসে প্রধান সড়কে। এ নিয়ে ছোটবড় দুর্ঘটনা নিয়মিতই ঘটে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

১৭ কিলোমিটর দূরত্ব মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের ওপর চকশ্যামনগর, মোনাখালি, দারিয়াপুর, পুরন্দরপুর, কেদারগঞ্জ মোড়ে সপ্তাহের প্রতিদিনই একেক হাট একেকদিন বসে।

কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী ঠান্টু মিয়া ও আসাদুজ্জামান জানান, রাস্তায় বসে ব্যবসা করতে মন চায় না। এখানে জীবনের নিরাপত্তা থাকে না। রাস্তার ওপর হাট বাজার বসানোর কারণে এখানে যানজট হয় কিন্তু জিনিস তো বিক্রি করতে হবে।

মেহেরপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী সড়কগুলো দুর্ঘটনাকবলিত। এমনিতেই সরু রাস্তা তার ওপর হাটবাজার।

মেহেরপুর জেলায় এই তিনটি সড়কে প্রতি বছর অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। শুধু রাস্তা পারাপার হতে গিয়েই অনেক মানুষ নিহত হন। জানালেন, গাংনী শহরের বাসিন্দা আজিজুল হক রানু। 

তিনি বলেন, গাংনী শহরসহ মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দু পাশে হাট বসার কারণে প্রচুর ভিড় হয়। হাটের দিন মানুষ রাস্তা পার হতে  গিয়ে অনেকে গাড়ি চাপায় পড়ে।

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের শহরের মধ্যে মেহেরপুর হাট, আমঝুপি, বারাদী, দরবেশপুরে রাস্তার জায়গাতেই হাট ও বাজার রাস্তার দুপাশ দিয়ে। ফলে ব্যস্ত এই সড়কটি যেন হাটবাজারের এক মৃত্যু ফাঁদ, জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

খলিলুর রহমান নামে স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কটি ব্যস্ত সড়ক। এই সড়কে প্রতিদিন শত শত ভারী যান চলাচল করে। এখানে রাস্তা পার হওয়া খুব কঠিন। বাজার এলাকায় প্রতি মাসেই নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে।

মেহেরপুর জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ফেরদৌস জানান, মহাসড়ক ঘেঁষে কোনো হাটবাজারই বৈধ নয়। এমনকি যেকোনো সড়কে মানুষের বেশি সমাগমই নিষিদ্ধ। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় সেই সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা শতভাগ থাকে। আমরা চেষ্টা করি এসব এলাকার মানুষকে সচেতন করতে। যেন তারা রাস্তা বাদ দিয়ে হাটবাজার বসান এবং চলাচল সাবধানে করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!